মানসিক চাপে পরীক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২৩:২৫

প্রস্তুতিতে আগ্রহ হারাচ্ছে অনেকে

এইচএসসিও বিলম্বের আশঙ্কা
আজকের এসএসসি পরীক্ষা ৬ মার্চ
২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ ও হরতালের কারণে নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। বারবার পরীক্ষার তারিখ পুনর্নির্ধারিত হওয়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি। ভোগান্তি বেড়েছে অভিভাবকদের। এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সময়সীমা বেড়ে যাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করতেও দেরী হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, পরীক্ষা শুরুর পর এ পর্যন্ত সপ্তাহের সব কর্মদিবসে হরতাল দিয়েছে ২০ দলীয় জোট। ফলে মার্চের শেষ সপ্তাহ নাগাদ এসএসসির লিখিত পরীক্ষা শেষ হতে পারে। ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হতে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে গড়াবে। তাই ঘোষিত সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী পহেলা এপ্রিলের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়া ‘প্রায় অসম্ভব’।
শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হরতাল-অবরোধে বিঘ্নিত চলমান এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। প্রতি সপ্তাহে ২০ দলীয় জোট ভেঙ্গে ভেঙ্গে হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দিচ্ছে। পরিপ্রেক্ষিতে শেষ মুহূর্তে নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ বিঘ্নিত হচ্ছে অন্যদিকে পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে তারা। এসএসসির মত গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার সময়সীমা বেড়ে যাচ্ছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা হওয়া- না হওয়ার মানসিক চাপ নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ কমছে।
একাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তার কারণে শুক্র ও  শনিবার পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে ঐ দিনগুলোতে হয়তো পরীক্ষা নির্বিঘ্নে দেয়া যাচ্ছে। কিন্তু বারবার পরীক্ষা স্থগিত ও তারিখ পুনর্নির্ধারিত হওয়ায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা মানসিকভাবে চাপে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী ইত্তেফাককে বলে, ১৮ ফেব্রুয়ারি পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ীই প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলাম। কিন্তু পরে এর সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হলে অন্য বিষয়ের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে তেমন আগ্রহ পাইনি। বারবার পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তারা হতোদ্যম হয়ে পড়ছে বলে জানায়।
শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এসএসসির মত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক গঠনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতালের কারণে পরীক্ষা শুরু হয় ৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার। এরপর থেকে পূর্ব নির্ধারিত ৪, ৮, ১০, ১২, ১৫, ১৮, ২২ ও গতকাল ২৪ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্মদিবসে অনুষ্ঠেয় এ পরীক্ষাগুলো প্রতি শুক্র ও শনিবারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৪ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা আগামী ৬ মার্চ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষার তারিখ এখনও পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি। এরই মধ্যে আগামী শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত হরতালের সময়সীমা বর্ধিত করায় আগামী কাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাও পেছানো হবে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, হরতালে পরীক্ষা গ্রহণ করা যেত। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আসা-যাওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাধ্য হয়েই হরতালের দিনগুলোর পরীক্ষা শুক্র-শনিবার বা অন্য ছুটির দিন গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে এপ্রিলের এক তারিখে শুরু করা না গেলেও প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। তিনি জানান, এসএসসির বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার ব্যাপারে আজ বুধবার জানানো হবে।
শিক্ষামন্ত্রী এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে বলেছিলেন, অবরোধে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও, হরতালে হবে না। দিনে একটির বেশি পরীক্ষা হবে না। পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও মাদ্রাসা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এসএসসির সর্বশেষ পরীক্ষা ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আর মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের শেষ পরীক্ষা ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত সবগুলো পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্নির্ধারিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ দিনে ৫টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বারবার হরতালের কারণে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি সময়ে পরীক্ষা শেষ করার চেষ্টা চলছে। এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শুরু করার চিন্তা মন্ত্রণালয়ের ছিল। সে অনুযায়ী আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি।