মাদার তেরেসাকে নিয়ে আরএসএস প্রধানের বিরূপ মন্তব্য

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:১৪

মাদার তেরেসাকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধানের বিরূপ মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ভারতে। বিরোধী দলের নেতারা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগওয়াতের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। খ্রিস্টান নেতারাও তার এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

গত সোমবার রাজস্থানে এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগওয়াত বলেন, মাদার তেরেসার দাতব্য প্রতিষ্ঠান ভারতে শুধু একটা কাজই করতে পেরেছে, আর সেটা হলো গরীবদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করা। তিনি বলেন, মাদার তেরেসা গরীবদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করেছেন সেটা দোষের ছিল না। তবে তিনি তা সেবার নামে করেছেন। এটা করার ফলে তার সেবা করার কাজটি গুরুত্বহীন হয়ে গেছে।
দিল্লি ক্যাথোলিক চার্চের ফাদার সাভারিমুথু বলেন, মাদার তেরেসা মানব সেবায় তার গোটা জীবন উত্সর্গ করেছেন। তার সম্পর্কে এমন বক্তব্য খুবই দুঃখজনক। এমন বক্তব্যের জন্য বিজেপিকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা বলেন, মাদার তেরেসাকে এমন ভাবে অপমান করা ঠিক হয়নি। দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এক টুইটবার্তায় এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়। সাংবাদিক রাজদিপ সারদেশাই বলেন, আমাদের সমাজে তার মতো মায়ের খুব দরকার।
ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের সাথে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে আরএসএসের। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি সব ধর্মের সমান অধিকারের ঘোষণা দেয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এ বক্তব্য দিলেন আরএসএস প্রধান।

মাদার তেরেসা দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে কলকাতার হতদরিদ্রদের সেবা করেছেন। গরীব মানুষের সহায়তায় তিনি মিশনারিজ অব চ্যারিটি গঠন করেন। তার এই মহতী কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৭৯ সালে তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। ভারত সরকারও তাকে ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ভারতরত্ন পুরস্কারে ভূষিত করে।