'সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গেও আমার কথা হয়'

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৩:৫৫


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা দাবি করেছেন, নাগরিক ঐক্য কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গেই শুধু নয়, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গেও তার কথা হয়। তিনি বলেন, যেহেতু রাজনীতি করি সেহেতু আমাদের মধ্যে তো আলাপ হতেই পারে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কের বাংলা গণমাধ্যম ‘সাপ্তাহিক ঠিকানা'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাদেক হোসেন খোকা এসব কথা বলেন।
নিউইয়র্কে ক্যান্সারে চিকিৎসাধীন সাদেক হোসেন খোকা নাগরিক এক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে তার টেলিফোন আলাপ প্রসঙ্গে বলেন, একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে মাহমুদুর রহমান মান্নার সাথে আমার সব সময় যোগাযোগ আছে। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তার সঙ্গে আমার ২০ থেকে ২৫ বার আলাপ হয়েছে। মান্না আমার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন। খোকা বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করেছেন। তার সঙ্গে আমার রাজনীতি নিয়ে একাডেমিক আলোচনা হয়েছে।
খোকা আরো বলেন, ‘আমার সাথে তো আওয়ামী লীগের অনেক নেতার আলাপ হয়, এমনকি ২/১ জন মন্ত্রীর সঙ্গেও আলাপ হয়েছে। ১৪ দলেরও অনেক নেতার সঙ্গে হরহামেশা আলাপ হচ্ছে। সুশীল সমাজের নেতাদের সঙ্গে আলাপ হচ্ছে। তাতে কী হয়েছে?’
মাহমুদুর রহমান মান্নাকে গ্রেপ্তার করা প্রসঙ্গে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘আমরা তো এমন কিছু আলোচনা করিনি যাতে মান্না বিপদে পড়তে পারেন। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি সেহেতু আমাদের মধ্যে তো আলাপ আলোচনা হতেই পারে। তার থেকে হয়ত আমার কিছু শেখার থাকতে পারে, আমার কিছু ঝালাই করে নেয়ার ব্যাপার থাকতে পারে বা দেশের এই নাজুক পরিস্থিতিতে তারা কী ভাবছেন, আমরা কী ভাবছি- তা নিয়ে সমন্বয় করার বিষয় থাকতে পারে।’
৪২ মিনিটের কথপোকথন প্রসঙ্গে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, ‘কত মিনিট কথা বলেছি, তাতো বলতে পারবো না, কারণ আমিতো ঘড়ি ধরে কথা বলিনি। সময় দেখার তো প্রয়োজন নেই।’
তিনি বলেন, ‘তারা যেহেতু সংলাপের পক্ষের লোক, আমরাও তো আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির নিষ্পত্তি করতে চাই। তারাও সব সময় সংলাপের পক্ষে আছেন, সেহেতু এ ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তার একটা সমন্বয় আছেই।’
ফাঁস হয়ে যাওয়া টেলিফোন রেকর্ডের ব্যাপারে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, ‘আমি এটা শুনিনি। তবে শুনবো’। বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লাশ ফেলানো নিয়ে কোন কথা হয়নি। লাশের বিষয়টি সম্পূর্ণ বোগাস। সম্পূর্ণ একাডেমিক আলোচনা হয়েছে, কী করলে কী হবে, অতীতে কী হয়েছে, আগামীতে কী হতে পারে, ছাত্র আন্দোলনের গতি প্রকৃতি, ক্রয়ফায়ার, আমাদের কৌশলের কোন পরিবর্তন আনা দরকার কী না, আমাদের আন্দোলন কত দিন চলতে পারে, সরকারের উপরে চাপটা আরো কীভাবে বাড়ানো যায়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের সমর্থনের পরিধি আরো কীভাবে বাড়ানো যায়Ñ এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি আসলে জানতে চেয়েছি অন্যান্য দলগুলোর অবস্থান কী। এতে দোষের কী আছে?’
বর্তমানে বিএনপির আন্দোলন কোন পর্যায়ে জানতে চাইলে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, ‘আমরা তো একটি কর্মসূচির মধ্যে আছি। আমাদের কর্মসূচি সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এই সরকার একটা দখলদার সরকারের মত আচরণ করছে। যেটা ইয়াহিয়া খানের ২৫ মার্চের সরকারের কার্যকলাপ আর শেখ হাসিনা সরকারের কার্যকলাপের পার্থক্য দেখি না। এই ক্ষেত্রে আন্দোলনের কৌশল নিয়েও আমাদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে জনগণকে সাথে নিয়ে কীভাবে আন্দোলনটা আমরা এগিয়ে নিতে পারি।
টেলিফোন আলাপে মাহমুদুর রহমান মান্না সভা বা মিছিল করার জন্য তার কাছে লোক চেয়েছেন এ প্রসঙ্গে সাদেক হোসেন বলেন, ‘তাদের একটি মিছিল বা সমাবেশ করার কথা, তাদের সঙ্গে এখন আমাদের কর্মসূচি অভিন্ন।’ খোকা বলেন, ‘আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলাম, দলমত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে আমার একটা এক্সচেঞ্জ আছে, তার কর্মসূচি কীভাবে সফল করা যায় সেটাও তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন।’
মান্নার সঙ্গে কথপোকথন মিডিয়ায় গেল কীভাবে এই প্রশ্নের জবাবে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, ‘এটাও সরকারের একটি ক‚টকৌশল। এটা সরকারই করিয়েছে। অন্যদিকে একজনের ব্যক্তিগত কথোপকথন পাবলিকলি দেয়া আইনবহির্ভূত বলে আমি মনে করি। আবার যেসব মিডিয়ায় এসেছে সেই সব মিডিয়ার সঙ্গে সরকারের যোগসাজস রয়েছে এবং সরকারও সেই সব মিডিয়াকে পৃষ্ঠপোষকতা করে।’