পাটুরিয়া ঘাটের নিকট এমভি মোস্তফা লঞ্চ ডুবির চার দিনের মাথায় বুধবার পদ্মার ভাটি থেকে হতভাগ্য আরোও ৮ যাত্রীর লাশ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৮। তবে, উদ্ধারকৃত লাশের সংখ্যা ৮০ বলে জানান সেফ’ নামক উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া কর্মীরা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি লাশের জন্য ২০ হাজার টাকা করে আত্মীয়-স্বজনদের হাতে দেয়ার কথা থাকলেও অনেকে তা পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম খান জানান, লাশ নেয়া-দাফন বা সৎকারের জন্য মালিকের পক্ষ থেকে পৃথক ভাবে নগদ অর্থ ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।
বুধবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লঞ্চ যাত্রী শিবালয় উপজেলার ছোট বোয়ালী গ্রামের নিখোঁজ সুবল সূত্রধর (৭০), ভাতিজা সঞ্জিত সূত্রধর (৮), লঞ্চ কর্মচারী দক্ষিণ তেওতা গ্রামের আবুল হাসেম হাসু (৬০), এ লঞ্চের বাবুর্চি এলাচিপুর গ্রামের সোরহাব (৬০), ঘিওর উপজেলার চরকুসুন্ডিয়া গ্রামের হাবিব মোল্লার পুত্র মান্না পাগলা (৬০), দৌলতপুর উপজেলার সমেতপুর গ্রামের উজ্জল মোল্লার পুত্র ইমন (৩), কুষ্টিয়া কুমারখালীর বিলপটিয়া গ্রামের মিলন শেখের স্ত্রী লিপি আকতার (২২), রাজবাড়ী বালিয়াকান্দীর ভিননগর গ্রামের রিপন মিয়ার কন্যা মারিয়া (৫) ও ঝিনাইদহ শৈলকোপার নাজমূল হুসাইনের কন্যা মারুফার (৫) লাশ ঘটনাস্থলের প্রায় ৬০ কি.মি. দূরে দোহারে পাওয়া যায়। অন্য লাশগুলো ১০/১২ কি.মি. দূরে বিভিন্নস্থানে ভেসে উঠে। প্রতিটি লাশের বিকৃতি ঘটেছে। এছাড়া, সোমবার উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত (৪০) এক নারীর লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, স্থানীয় আরুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান খান মাসুম ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন পান্নু নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধার কাজে ও আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এছাড়া, নিহতদের স্মরণে ও আত্মীয়-স্বজনদের শোক জানিয়ে শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকবর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা ও কাজীরহাট ঘাটে শোক ব্যানার স্থাপন করেছেন।
এদিকে, দুর্ঘঘটনাকবলীত লঞ্চ যাত্রী ঢাকা মহাখালীর বাসিন্দা ব্র্যাক অডিট কর্মকর্তা মোস্তফা মাহফুজ, রাজবাড়ী পাংশার সিকেন আলীর স্ত্রী আমিরুন্নেছা, নড়াইল লোহাগাড়ার হাসেম শেখের কন্যা শাহেদা বেগম, মরাগাতি গ্রামের আইউব আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগমসহ নিখোঁজ রয়েছে এমন যাত্রীদের আত্মীয়-স্বজন ও সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে। এ নিয়ে কার্গো মাস্টার ইকবাল, লঞ্চ মাস্টার আফজাল, সুকাণী নজরুলসহ সকল কর্মচারীর বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় মামলা হয়েছে।
