ইসরাইলকে বর্জনের প্রচারণা বন্ধ না করলে দক্ষিণ আফ্রিকায় সাইবার হামলা চলানো হবে বলে হুমকি দিয়েছিল মোসাদের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দানকারী একটি গোষ্ঠী। আল জাজিরার অনুসন্ধানে ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা নথিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
নথিতে দেখা গেছে, ২০১২ সালের ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থমন্ত্রী প্রবিন গর্ধানকে বেনামি একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে দেশটির ব্যাংকিংসহ আর্থিক খাতগুলোতে সাইবার হামলার হুমকি দেওয়া হয়। চিঠিটিতে বলা হয়, ৩০ দিনের মধ্যে ‘বাণিজ্য ও মঞ্জুরি বর্জন’ প্রচারণা ভুল এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করা না হলে সাইবার হামলা চালানো হবে। চিঠি প্রদানকারীরা নিজেদেরকে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা বলে উল্লেখ করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার গোয়েন্দা সংস্থা 'স্টেট সিকিউরিটি এজেন্সি' (এসএসএ) বিষয়টি নিয়ে ওই বছরের সেপ্টেম্বরেই আলোচনা করে। আলোচনা সূত্রে জানা গেছে, মোসাদের ওই সাবেক কর্মকর্তারা সংস্থাটির ইলেক্ট্রনিক এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রযুক্তি ব্যবহারের করার ক্ষমতা ছিল।
ওই কর্মকর্তাদের দাবি, তারা স্টাক্সনেট ও ফ্লেম ভাইরাস তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল। ধারণা করা হয়, ইরান ও মধ্য-পূর্ব দেশগুলোতে সাইবার হামলা চালানোর জন্য ওই ভাইরাসগুলো তৈরি করেছিল মোসাদ। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ইরানের বুশেহর পরমাণু প্রকল্পের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করতে স্টাক্সনেট ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। এর ফলে দেশটির পরমাণু সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের এক-পঞ্চমাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রসঙ্গত, ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত ফিলিস্তিনের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া, দেশটিতে বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রবাদপুরুষ নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বাধীন পিএলও’র (প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রয়াত নেতা ম্যান্ডেলার সূত্র ধরেই তার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস ও দক্ষিণ আফ্রিকাবাসীর সঙ্গে ফিলিস্তিনের সম্পর্ক গাঢ় হয়। দেশটির রাজনীতিকরা ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে। গতবছর গাজায় ইসরাইলী বিমান হামলার ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় ইসরাইলবিরোধী বেশ কয়েকটি বিক্ষোভও হয়। সুত্র: আল জাজিরা
