শেষ বেলায় প্রাণ পেয়েছে মেলা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:৫৫

শেষ বেলায় এসে নতুন করে প্রাণ পেয়েছে মেলা। পাঠকের ভিড়ে, স্টলে স্টলে বই কেনাবেচায় সরগরম মেলা। মা-বাবা ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে কিনেছেন বই। কেউ কেউ ছবি তুলছেন মেলায় আসা প্রিয় লেখকের সঙ্গে, নিচ্ছেন অটোগ্রাফ। ছবি তুলছেন ভাষা শহীদদের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে। বন্ধুদের নিয়ে সারাদিন ধরে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে, আড্ডা দিয়ে কাটালেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মেলায় এখন আর ছুটির দিন বলে আলাদা করা যাচ্ছে না। পাঠক মেলায় আসছেন বই কিনতেই। সব স্টলে বই চলে এসেছে। এখনো আসছে। বিক্রিও হচ্ছে। যারা ভালো বই প্রকাশ করে তাদের তো দীর্ঘদিনের একটা পরিচিতি রয়েছেই। নতুন প্রকাশকরাও শেষবেলায় এসে বলছেন বিক্রি ভালো।
অনেকদিন ধরেই পাঠক-লেখক-প্রকাশকরা বইমেলার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছিলেন। শেষ সময়ে এসে মেলা কর্তৃপক্ষ তিনদিনের জন্য মেলার সময়সীমা দেড় ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেলা দু্টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বই মেলা। শেষ সময়ে এই সিদ্ধান্তে প্রকাশকরা খুব উচ্ছ্বসিত না হলেও আগামী বছর যেন এই সময়সীমা শুরু থেকেই নির্ধারণ করা হয়— সেই দাবি জানালেন তারা। বাংলাদেশ পুস্তক ও বিক্রেতা সমিতির চিঠির প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ  থেকে মেলা বিকাল ৩টার পরিবর্তে ২টার সময় খুলবে এবং বন্ধের সময় রাত সাড়ে ৮টার পরিবর্তে রাত ৯টা করা হয়েছে। বাংলা একাডেমির সচিব ও মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. আলতাফ হোসেন বলেন, মেলার দিন বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই।
ইউপিএল-এ দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ইউপিএল-এর প্যাভিলিয়নের সামনে দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় গতকাল। বই দুটি হচ্ছে কাদের মাহমুদের ‘গিলগামেশের মহাকাব্য’ ও দেবব্রত রেজের অনূদিত ‘ফাউস্ট’। এ দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অধ্যাপক হায়াত্ মামুদ।
নতুন বই
বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্যমতে নতুন বই বের হয়েছে ১১৬টি। এরমধ্যে জাকির তালুকদারের ‘গোরস্তানে জ্যোত্স্না’, হারুন অর রশিদের ‘প্রবাসী নাকি নরকে?’ এনেছে সময় প্রকাশন, ফজলুল কাশেমের ‘দিবানিশির বাঁশি’ এনেছে মিজান পাবলিশার্স, জুয়েল মুস্তাফিজের ‘মেরাতুন্নেসা মন মহাজনের কথা’ এনেছে চৈতন্য, তুষার কবিরের ‘ঘুঙুর ছড়ানো ছড়া’, রহিমা আফরোজা মুন্নীর ‘উড্ডীন নদী গান’ এনেছে অনিন্দ্য প্রকাশন, মাজহার সরকারের ‘গণপ্রজাতন্ত্রী নিঃসঙ্গতা’ এনেছে দিব্যপ্রকাশ, স্বকৃত নোমানের ‘বহুমাত্রিক আলাপ’ এনেছে বিদ্যাপ্রকাশ, মোস্তফা কামাল বিপ্লবের ‘কম্পিউটার অভিধান’ এনেছে অবসর, সৈয়দ আরমান হোসেনের ‘আফ্রিকার নৃ-গোষ্ঠী’ এনেছে ধ্রুবপদ, নাসিমা আনিসের ‘কিডনি কারবার’ এনেছে নান্দনিক, জুলফিকার নিউটনের ‘স্পার্টাকাস’ এনেছে রাবেয়া বুকস,  ফিহির হোসাইনের ‘মিথ্যের ভাঁজ’ এনেছে বিভাস, ওয়াহিদ জালালের ‘নিস্তব্ধ আয়ুষ্কাল’ এনেছে নন্দিতা প্রকাশ, হাবিবুর রহমান জুয়েলের ‘মায়ার কাজল’ এনেছে কাকলী, আবুল কাসেম হায়দারের ‘গ্যাস বিদ্যুত্ বাণিজ্য’ এনেছে লেখালেখি, ফারহানা হকের ‘অতঃপর হিরন্ময়তা’ এনেছে অন্যপ্রকাশ, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের ‘ফেনীর সাংবাদিক ও সংবাদপত্র’, ইমন চৌধুরীর ‘পাশের মানুষ’ এনেছে সৃজনী, মেহেরুন নেছা রুমার ‘অপরাহ্ন প্রেম’ এনেছে নালন্দা প্রকাশনী।
মূলমঞ্চের আয়োজন
বুধবার গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শান্তনু কায়সার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পূরবী বসু, বদিউর রহমান এবং জাকির তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠান

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘গত বছরে বাংলাদেশের কবিতা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।