এবার উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রেও!

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৫:০৩
 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে হত্যার পরিকল্পনা এবং ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এ যোগ দেয়ার জন্য বিমান ওঠার সময়  জেএফকে এয়ারপোর্টে দুই ব্যক্তিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলগামী ফ্লাইটে আরোহণের আগে আটক করা হয় ২৪ বছর বয়সী আব্দুরসুল হাসানোভিচ জুরাবোয়েভকে। তার আরেক সহযোগী ১৯ বছর বয়সী আকরক সাইদাকমেটোভের-এর আগামী সপ্তাহে ইস্তাম্বুল হয়ে সিরিয়া যাওয়ার কথা ছিল। তাদের জিহাদ যাত্রার জন্য অর্থ যোগানদাতা ৩০ বছর বয়সী আবরর হাবিবভকে ফ্লোরিডায় এবং প্রথম দুজনকে নিউইয়র্কে গ্রেফতার করার পর ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য থেকে তিন তরুণীর আইএস-এ যোগ দেয়ার জন্য দেশ ছাড়া নিয়ে সারা বিশ্বে যখন তোলপাড় চলছে তখন এই তিনজনকে গ্রেফতারের ঘটনায় নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত বছর আগস্ট মাসে এই তিনজনের সন্দেহজনক তত্পরতা প্রথম মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (এফবিআই) নজরে আসে। উজবেকিস্তানের একটি ওয়েবসাইটে জঙ্গিবাদের সমর্থনে লেখার সূত্র ধরে তাদের উপর নজরদারি শুরু হয়। ছদ্মবেশে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ চালাতে থাকে গোয়েন্দারা।
আদালতে দায়ের করা মামলার বিবরণীতে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া আব্দুরসুল এবং হাবিবভ উজবেকিস্তান থেকে আসা মার্কিন অভিবাসী। তাদের সহযোগী সাইদাকমেটোভ উজবেকিস্তান বংশোদ্ভূত। তারা তিনজনই নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এলাকায় বসবাস করতেন। জিহাদি বন্ধু বেশে গোয়েন্দাদের সঙ্গে অভিযুক্তরা তাদের জঙ্গি পরিকল্পনা নিয়ে কথাবার্তা শুরু করলে তা গোপনে রেকর্ড করা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রত্যেকের ১৫ বছর করে সাজা হতে পারে।
অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন সরাসরি সিরিয়ায় গিয়ে আইএস-এর সঙ্গে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছিল। হাসানোভিক তার মাকে ফাঁকি দিয়ে ইস্তাম্বুল হয়ে সিরিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করে। ছদ্মবেশী গোয়েন্দাদের সঙ্গে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে গুলি করা, পুলিশের উপর গুলি চালানো করা এবং নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমাবাজির পরিকল্পনার কথাও জানায়। বিমানযাত্রার সময় তারা যাত্রীবাহী বিমান হাইজ্যাক করার পরিকল্পনার কথাও আলোচনা করে। তাদের সব কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করা হয়।
জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ এসব লোকজন ইন্টারনেটে আইএস-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করে বলে আদালতে উত্থাপিত বিবরণীতে বলা হয়েছে। সরাসরি সিরিয়া যাওয়া সহজ হবে না মনে করে তারা গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুল পর্যন্ত যাওয়ার বিমান টিকেট সংগ্রহ করে। ইস্তাম্বুলগামী বিমান হাইজ্যাক করে আইএস-এর কাছে পৌঁছার ইচ্ছা ছিল তাদের। বিমানযাত্রার সময় পুলিশ সন্দেহজনক মনে করে আটক করলে পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পাল্টা হামলা করার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।
বুধবার দুপুরে নিউইয়র্কর পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কমিশনার উইলিয়াম জে. ব্রাটন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই গ্রেফতারের ঘটনা দেশের অভ্যন্তরে নীরবে বেড়ে উঠা জঙ্গিবাদের হুমকির কথাই আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে।
এফবিআই এর পরিচালক জেমস কোমেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জঙ্গি উত্থানের হুমকি ক্রমবর্ধমান। তিনি জানান, এসব অভ্যন্তরীণ জঙ্গিদের উত্থান ঠেকানোর জন্য প্রতিটি রাজ্যে জোরদার নজরদারি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ফেডারেল কোর্টের সরকারি আইনজীবী লরেটা লিনচ্্ বলেছেন, দেশে-বিদেশে আইএস এখন হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরো বলেন, সিরিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠির সঙ্গে বিদেশিদের অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এখন ঝুঁকিপূর্ণ ।
উল্লেখ্য, এর আগেও সিরিয়া যাওয়ার পথে একাধিক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।