গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছিল ‘চলতি মাসেই করতোয়ায় উচ্ছেদ অভিযান’ শীর্ষক প্রতিবেদন। গত সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া জেলা প্রশাসন অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করে আগামী সাত দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ দিয়েছেন। বগুড়া পৌরসভাসহ ৩০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ওই নোটিশ পাঠিয়েছে বগুড়া জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের ভূমি শাখা থেকে গত সোমবার পাঠানো এই নোটিশে বলা হয়, সাত দিনের মধ্যে নদীর সীমানা থেকে অবৈধ স্থাপনা নিজ নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে। নচেৎ বেঁধে দেওয়া সময়ের পর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ওই সব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
এ সংক্রান্ত নোটিশ পাঠানো হয়েছে, বগুড়া পৌরসভা, বেসরকারি সংস্থা ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ, শহরের মালতিনগর এলাকার মোহাম্মদ বাদশা, হাজেরা বেগম, বাহালুল ইসলাম, আবদুস সাত্তার, লাল মিয়া, বুলু মিয়া, জাকির হোসেন, খলিলুর রহমান, মাটিডালি এলাকার আরিফ হোসেন, নাটাইপাড়ার সাইদুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন, মশিউর রহমান, লুৎফর রহমান, আরিফা বেগম, আবুল কাশেম, বজলুর রশিদ, বজলার রহমান, মো. মিল্টন, গৌর দাস, অনিল কর্মকার, গোপাল চন্দ্র দাস, রাধা চন্দ্র দাস, প্রহল্লাদ, বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতাল, গোপীনাথ মন্দির এবং সাহেব বাজার বায়তুল হামদ জামে মসজিদকে।
টিএমএসএস এবং বগুড়া পৌরসভা একাধিক স্থানে নদী দখল করায় আলাদাভাবে দুইটি নোটিশ তাদের পাঠানো হয়েছে।
সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহর ও শহরতলির বিভিন্ন অংশে করতোয়া নদীর অবৈধ দখলকারী ৩৮ জনের তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। এই তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি তোলে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনসহ (বাপা) বেশ কিছু সংগঠন। ওই তালিকার আটজনকে বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসন ওই উচ্ছেদ নোটিশ পাঠিয়েছেন।
পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মালতিনগর ভাটকান্দি সেতু–সংলগ্ন এলাকায় নদী দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ ও পানির পাম্প স্থাপন এবং কালেক্টরেট স্কুল সংলগ্ন স্থানে নদীর জায়গা ভরাট করে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
আরো পড়ুন: ৬০ বোতল ফেনসিডিলেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
পৌরসভার মেয়র এ কে এম মাহবুবর রহমান বলেন, নদী পাড়ের জায়গা খালি ছিল বলে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেছে পৌরসভা। প্রশাসনের নোটিশ পেলে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আলীমূন রাজীব বলেন, ইতিমধ্যে তৈরি করা তালিকা চূড়ান্ত নয়। করতোয়া নদী দখলকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তবে ৩০ দখলদারের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চলবে। নতুন করে আরও দখলদার চিহ্নিতকরণের কাজও চলবে।
ইত্তেফাক/অনি
