দোলাচলে গ্রিস সরকার, এথেন্সে বিক্ষোভ

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৬:৪৫
 
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে পুলিশের সঙ্গে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। বামপন্থি দল সিরিজা পার্টি গত মাসে ক্ষমতায় আসার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো এই বিক্ষোভ হলো। গ্রিসকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে কিনা এ ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার জার্মানির পার্লামেন্টে  ভোটাভুটিকে সামনে রেখে এই ঘটনা ঘটলো।
 
বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিই সিপ্রাস তার নীতি থেকে সরে এসেছেন। একই অভিযোগ তুলেছেন তার দলের অনেক নেতাকর্মীও। বিশেষ করে বামপন্থীরা সিপ্রাসকে এমন ‘আপোষকামী নীতির’ কারণে দুষছেন। সিরিজা পার্টিও ভেতর এ নিয়ে ব্যাপক মতভিন্নতা তৈরি হয়েছে। ব্যয় সংকোচননীতি ও ঋণবিরোধী সিরিজা পার্টি প্রায় মাসব্যাপী বৈঠক-প্রচারণার পর এখন পর্যন্ত ইউরোজোনের সঙ্গে কোনো স্থায়ী সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।
 
গ্রিসকে আগামী চার মাসের জন্যে আরও ঋণ দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে চাইছে জার্মানি। এ বিষয়ক একটি প্রস্তাবনার ওপর ভোট গ্রহণ শেষে শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জার্মান পার্লামেন্টের। ইউরোজোনের অনেক সদস্যই জার্মানির এ উদ্যোগকে ‘কঠোর আচরণ’ বলে সমালোচনা করেছেন। জার্মান দাতাগোষ্ঠীর অনেকে ইতোমধ্যেই এ প্রস্তাবনার প্রতি সায় প্রদান করেছেন। জার্মানির পার্লামেন্ট সদস্যদের অনেকেই আশু সিদ্ধান্তের কার্যকারিতার ব্যাপারে সন্দিহান। তারপরও খোদ অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের দল যখন এর পক্ষে, তখন এটি চূড়ান্ত হওয়া হয়তো সময়ের ব্যাপার মাত্র।
 
ইউরোজোনের অর্থমন্ত্রীরা গত মঙ্গলবার গ্রিসের নতুন প্রস্তাবনাপত্র অনুমোদন করেন। তার সাপেক্ষেই জার্মানির পক্ষ থেকে এ নতুন উদ্যোগে হওয়া সম্ভব হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গ্রিসের কাছে জার্মানির প্রাপ্য ২৪ হাজার কোটি ইউরো। আসছে ২৮ ফেব্রুয়ারি তা পরিশোধ করার শেষ সময়। কিন্তু দেশটি এখন তা পরিশোধে সমর্থ নয়। এ অবস্থায় গ্রিসের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নিরুপায় মনোভাব রাজধানী এথেন্সে সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা এরই বহিঃপ্রকাশ। রাজপথে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ও পেট্রোল বোমা ছুড়েছেন এবং একাধিক যানবাহন জ্বালিয়ে দিয়েছেন।  সূত্র: আল জাজিরা ও বিবিসি