মান্না-খোকার ফোনালাপের ধারাবাহিকতায় অভিজিত্ হত্যাকাণ্ড :নাসিম

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০৩:৫১

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ও সাদেক হোসেন খোকার সাম্প্রতিক ফোনালাপের ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অভিজিত্ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এটি তাদের ষড়যন্ত্রের প্রথম লাশ। গতকাল সোমবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

অভিজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করার দাবি জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একজন সাংস্কৃতিক কর্মীকে হুমায়ুন আজাদের মতো করে হত্যা করা হয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। তারা যে লাশ চায়, তারা যে লাশের কথা বলেছে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বৃহস্পতিবার সেই লাশটা ওই এলাকায়ই পড়েছে। দেশের মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে তারা ক্ষমতায় যেতে চায়। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুখোশ প্রতিদিনই উন্মোচিত হচ্ছে। তিনি এখন জঙ্গির নেত্রীতে পরিণত হয়ে গেছেন। হতাশা থেকে উনি এমন একটি জায়গায় চলে গেছেন যার করুণ পরিণতির জন্য আমাদের আর কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অভিজিত্ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো গাফিলতি ছিল না। তারা (আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী) জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক কাজ করছে। অনেক বড় বড় ঘটনার রহস্যও তারা উন্মোচন করেছে। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে ১৪ দলে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
১৪ দলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা চারটি টিমে বিভক্ত হয়ে আগামী আট থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় শান্তির পক্ষে ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পদযাত্রা ও সমাবেশ সফল করব। তিনি বলেন, প্রথম টিমটি সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা; দ্বিতীয়টি গাজীপুর মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ; তৃতীয়টি চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী এবং চতুর্থ টিমটি কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ এবং যশোরের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানককে টিম গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই টিমের কাজ চূড়ান্ত করা হবে।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূহ-উল-আলম লেনিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু সাঈদ খান, এজাজ আহমেদ মুক্তা, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের শরীফ নূরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির নূরুর রহমান সেলিম, মাহমুদুর রহমান বাবু, গণআজাদী  লীগের এস কে শিকদার, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।