কংগ্রেসে ভাষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহু

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৫, ১৭:৪৬
 
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে ক্ষমতাধর ছয় রাষ্ট্রের সম্ভাব্য একটি চুক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি প্রদর্শন করতে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে তার এ বিষয়ে মঙ্গলবার বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে। তবে অনেক ডেমোক্রেট সদস্য কংগ্রেসের ওই বৈঠকে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।
 
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে পাশ কাটিয়ে কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে কম বাদানুবাদ হয়নি। মঙ্গলবার কংগ্রেস অধিবেশনে সেই আলোচিত ভাষণ দেবেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি ইরানের সঙ্গে বিশ্বের শক্তিধর ছয় রাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তির বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন। নেতানিয়াহু বলেছেন, তেহরানকে পারমাণবিক বোমা বানানো থেকে বিরত রাখতে ওই চুক্তিটি যথেষ্ট নয়। ওয়াশিংটন যাওয়ার আগে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি ইসরাইলের জনগণের নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। আমাদের ভবিষ্যতকে নিরাপদ রাখতে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাব।’
 
ওবামা প্রশাসন নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের ব্যাপারে একমত নয়। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার উষ্মাও প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ। ইসরাইলের অনেক রাজনীতিকও নেতানিয়াহুর অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এতে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে অহেতুক সম্পর্ক খারাপ হবে যা তাদের মিত্র দেশটির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু কট্টরপন্থী ইসরাইলিদের সমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে এমনটা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
 
এদিকে নেতানিয়াহুর আগমনকে ‘স্বাগত’ জানালেও চলতি সপ্তাহে জেনেভায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। শিগগিরই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তি হওয়ারও কথা রয়েছে। কেরি বলেন,‘ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে সবসময়ই স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু আমরা আশা করি না, এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক একটি রাজনৈতিক খেলার বস্তুতে পরিণত হবে। কারণ, আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য পারমানবিক অস্ত্র তৈরিতে ইরানকে বাধা দেয়া যা সবার জন্যই কল্যাণকর হবে।’ সূত্র: আল জাজিরা ও বিবিসি