জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে। তবে পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন আদালত মঞ্জুর বা খারিজও হয়িনি।
আদালত বলেছেন, এ বিষয়ে কোন আদেশ দিতে হলে তার (খালেদা জিয়া) আদালতে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। পরোয়ানা বাতিল করে তার জামিন মঞ্জুরের বিষয়টিও তখন বিবেচনা করা হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার অনুপস্থিতিতে বুধবার প্রায় দুই ঘণ্টা শুনানি করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ আদেশ দেন।
এ সংক্রান্ত খালেদা জিয়ার চারটি আবেদন নথিভুক্ত করে রাখে বিচারক। আর খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান আগের মতোই আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন বলে আদালত জানিয়েছে। একইসঙ্গে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৫ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন।
বেলা ১১টা ১৭ মিনিটে খালেদা জিয়ার পক্ষে ৪টি ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ১টি আবেদন দাখিল করেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারিকৃত পরোয়ানা প্রত্যাহারের পাশাপাশি জামিন বহাল রাখা, আদালতের প্রতি অনাস্থার আবেদন উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম মুলতুবি এবং তারেক রহমানকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা প্রদানের বিষয়টি এসব আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শুনানির শুরুর পূর্বে বিচারক বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) আসছেন কিনা? জবাবে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আদালতের আদেশ তাকে অবহিত করতে পারিনি। এজন্য আমরা কয়েকটি আবেদন দাখিল করেছি।
এ পর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌসুঁলি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, কোন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে এবং তিনি যদি আদালতে আত্নসমর্পণ না করেন তাহলে তার পক্ষে কোন আইনজীবীর আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য আদালতকে অনুরোধ জানান।
জবাবে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, এই আদালতের প্রতি খালেদা জিয়া অনাস্থা জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই অনাস্থার আবেদন নাকচ করে দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
পরে আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করেন খালেদা জিয়া, যা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এই আবেদন বিচারাধীন থাকাবস্থায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। যদিও ওইদিন তার পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছিলো।
তিনি বলেন, ২৪ ডিসেম্বর এই আদালতে হাজিরা দিতে এসে গাড়ি বহরে হামলার শিকার হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।
খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, নিন্ম আদালতের কোন সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে গেলে সেখান থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিচারিক আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা অনৈতিক।
খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী এম আসাদুজ্জামান, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আমিনুল ইসলাম, রাগীব রউফ চৌধুরী, একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
