ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীতে অবাধে বালু উত্তোলন

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩৫

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অবৈধভাবে চলছে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর দক্ষিণ পাশ থেকে বালু তোলা। নদীর পানি কমে যাওয়ায় সেতু পাড়ের স্থানীয় প্রভাবশালীরা গত তিন থেকে চার মাস ধরে প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে অবাধে বালু তুলছেন। 

কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ী ধরলা সেতু ও সেতু রক্ষা প্রটেকশন বাঁধের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি বড় ট্রাক্টর দিয়ে অবাধে বালু তুলছেন। যে জায়গা থেকে বালু তোলা হচ্ছে সেখানে মাটির নিচ দিয়ে লালমনিরহাট থেকে ৩৩ কেভির একটি বিদ্যুৎ লাইন ফুলবাড়ীতে প্রবেশ করেছে। সেটিও আজ হুমকির মুখে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব জেনেও তারা বালু তোলা বন্ধ করছেনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ টি ট্রাক্টরে বালু লোড করা হচ্ছে। 

এলাকাবাসী জুয়েল রানা, ইকবাল, রিপন ও শহিদুল ইসলাম জানান, যুগ যুগ অপেক্ষা করে ফুলবাড়ীবাসীকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুটি উপহার দিয়েছেন। গুটি কয়েক অসাধু ব্যক্তির কারণে তীর রক্ষাবাঁধ ও সেতুটি আজ হুমকির মুখে। তার এ বিষয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  

লালমনিরহাট জেলার নয়াহাট এলাকার ট্রাক্টর চালক মশিয়ার রহমান জানান, এখানে প্রতিদিন আমার মত ২০ থেকে ৩০টি ট্রাক্টরে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়  বালু কিনে বিভিন্ন জায়গায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করি। আমরা গত দুই থেকে তিন মাস ধরে এখানে বালু তুলে আসছি। 

সোনাইকাজী এলাকার নজির হোসেন বলেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য এছাহক আলীর নির্দেশে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ টি বালু বহনকারী ট্রাক্টর গুলো দেখাশুনা করি। একটি ট্রাক্টর সারাদিন ৫ থেকে ৮ ট্রিপ করে বালু আনা নেয়া করে। ট্রাক্টরে ট্রিপ প্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। প্রতিদিনের টাকার আয় এছাহক আলীর কাছে জমা দেই। তবে আমি সারাদিনের মজুরি হিসাবে কোনো দিন ১৫০ কোনো দিন ২০০ টাকা করে পাই। তিনি আরও বলেন, এখানে বালু তুললে তীর রক্ষাবাঁধ ও শেখ হাসিনা সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না। 

আরো পড়ুন: প্রাক্তন স্ত্রীকে নতুন করে ভালোবাসার কথা জানালেন হৃত্বিক

সাবেক ইউপি সদস্য এছাহক আলীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।  

ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ-হারুন বলেন, অবৈধভাবে বালু তোলা সম্পূর্ণ বে-আইনি কাজ। আমি খুব দ্রুত বিষয়টি প্রশাসনকে জানাচ্ছি। 

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

উল্লেখ্য, উপজেলার স্বপ্নের সেতুটি প্রায় ১৯২ কোটি  টাকা ব্যয়ে ১৯টি স্প্যান বিশিষ্ট ৯৫০ মিটার পিসি গার্ডারের কাজ সম্পন্ন করে এলজিইডি। গত বছরের ৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুটি উদ্বোধন করেন। 

ইত্তেফাক/অনি