আনসার বাংলা-৭ নামে টুইট করেছিল হিযবুত তাহরীর

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৫, ০০:২৫

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সদস্যরাই লেখক ও ব্লগার ড. অভিজিত্ রায়কে হত্যা করেছে। হিযবুত তাহরীরের চরমপন্থি সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অভিজিেক ফলো করছিলেন। অভিজিেক ফলো করার বিষয়ে শফিউর রহমান ফারাবী ব্লগ ও ফেসবুকে বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করতেন। হত্যার পর হিযবুত তাহরীরের সদস্যদের নির্দেশে বিদেশ থেকে ‘আনসার বাংলা-৭’ জঙ্গি সংগঠনের নামে দায় স্বীকার করে টুইটারে টুইট করা হয়। অভিজিত্ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারকৃত হিযবুত তাহরীর নেতা শফিউর রহমান ফারাবী ১০ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিনে এমন তথ্য দিয়েছেন তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে।

ডিবির উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন সময় ফারাবী বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিচ্ছে। তার দেয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে ফারাবী জানিয়েছেন, অভিজিত্ রায়কে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত নন। হিযবুত তাহরীরের সদস্যরা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, অভিজিেক যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করা হবে। অভিজিেক হত্যার জন্য হিযবুতের চরমপন্থি গ্রুপের শতাধিক ব্লগার একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। এই যোগাযোগের সময় ফেসবুক ও ব্লগে হত্যার পক্ষে ধর্মীয় আইন দিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। অভিজিত্ তার পূর্ব পরিচিত ছিলেন। তারা বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করতেন। অভিজিত্ তার ব্যক্তিগত শত্রু ছিলেন না। তিনি ধর্মবিরোধী লেখালেখি করতেন এবং তা প্রচার করতেন। এজন্যই তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন, তার প্রকাশিত বইগুলো বন্ধের জন্য সক্রিয় ছিলেন। ধর্মবিরোধী লেখার কারণেই তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডে তিনি জড়িত না থাকলেও তা তিনি সমর্থন করেন।
অভিজিত্ হত্যা মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ডিবির সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত বলেন, ফারাবী এখনো অভিজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। তবে ফেসবুক ও ব্লগে অভিজিত্ হত্যার সপক্ষে তথ্য দিয়েছিলেন। তাকে নানা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ফারাবীকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ফারাবী বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে অভিজিত্ রায়কে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। হত্যার জন্য উস্কানিও ছিল তার। হিযবুত তাহরীর সদস্যদের মধ্যে ড. অভিজিত্ রায় ও তার স্ত্রী ডা. রাফিদা আহমেদ বন্যার ছবি ও আমেরিকার ঠিকানা পর্যন্ত সরবরাহ করেছেন। এসব কারণে তাকে হত্যাকাণ্ডে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঐ কর্মকর্তা বলেন, ফারাবীকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। ফেসবুকে নিজের লেখাই তার সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। এজন্য নিজের মন্তব্যগুলো অস্বীকার করতে পারছেন না তিনি।
ডিবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নের সময় শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ফারাবী। পরে শিবির থেকে বের হয়ে যোগ দেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে। এই জঙ্গি সংগঠনে সক্রিয় থাকতেই ব্লগে ফারাবী ধর্মীয় লাইনে বিভিন্ন ধরনের মতবাদ প্রচার করতে থাকেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর ফজলুর রহমান জানান, ফারাবীকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াও জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দিকে নজরদারি করা হচ্ছে। অভিজিত্ হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তাদের কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে গতকাল পর্যন্ত ফারাবী ছাড়া মামলায় নতুন কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।