তিস্তার জট খুলতে চেয়ে মোদীকে চিঠি মমতার

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৫, ০১:১৮

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে তার দ্বিমত নেই। ঢাকা সফর থেকে ফিরে লেখা এই চিঠিতে মমতা জানিয়েছেন, এই চুক্তি নিয়ে জট খুলতে তিনি সহযোগিতাই করতে চান। গতকাল বুধবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সব ঠিক থাকলে এপ্রিল মাসেই ঢাকা সফরে যেতে চান প্রধানমন্ত্রী। বিদেশ সচিব এস জয়শঙ্করের হাত দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন মোদী। সেখানে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সফরের জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন। মোদী হাসিনাকে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই ঢাকায় যেতে চান তিনি। ১৯৯৬ এর ১২ ডিসেম্বর দিল্লিতে হাসিনার সঙ্গে গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে চুক্তি করার সময় তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে সঙ্গে রেখেছিলেন, তিস্তা চুক্তিতেও মমতাকে ঠিক একইভাবে সঙ্গে নিয়ে চলতে চাইছেন মোদী।
বাংলাদেশ থেকে ফিরেই মমতা তার সফরের খুঁটিনাটি জানিয়ে চিঠি লিখেন প্রধানমন্ত্রীকে। সেই চিঠিতে মমতা লেখেন, তার সফর ইতিবাচক হয়েছে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে তিনি যে শেখ হাসিনাকে আশ্বাস দিয়েছেন সে কথাও লিখেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ পানির ভাগ নিয়ে দু’পক্ষেরই কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। এই চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট জট আলোচনার মাধ্যমেই কাটিয়ে ফেলা সম্ভব। এ বিষয়ে সহযোগিতার প্রস্তাবও দিয়েছেন মমতা।
সরকারি সূত্র জানায়, ৯ মার্চ মোদী ও মমতার মধ্যে অনুষ্ঠেয় বৈঠকেও তিস্তা চুক্তি ও বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলো উঠবে।

এতোদিন নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাক্যালাপটুকুও সযত্নে এড়িয়ে এসেছেন মমতা। তবে এখন মোদীর সঙ্গে তার দূরত্ব কমানোর চেষ্টাও চোখে পড়ছে। ঢাকা সফরের আগে দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সম্মানে দেয়া প্রণব মুখার্জীর নৈশভোজে মোদীর মুখোমুখি হয়েছিলেন মমতা। অনেকের মতে, মোদীর সঙ্গে দেখা করতেই সে সময় দিল্লিতে বেশিদিন ছিলেন মমতা। এর পর অতি সম্প্রতি মোদীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য তার সময় চেয়েছেন মমতা। এই প্রেক্ষাপটেই তিস্তা নিয়ে মমতার চিঠি তার নরম অবস্থানের আরও একটি উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিস্তা চুক্তির ভবিষ্যত্ নিয়েও আশার আলো দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রের মতে, মমতার এই চিঠির পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত গ্রহণে আর কোনো বাধা থাকবে না।