ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডে কারাগারে আটক এক সন্দেহভাজন ধর্ষককে বৃহস্পতিবার কয়েক হাজার জনতা পিটিয়ে হত্যা করেছে।
হত্যার পর মরদেহ রাজধানী ডিমাপুরের কেন্দ্রস্থলে ঝুঁলিয়ে দেয়া হয়। প্রথমে পুলিশ জেল ভাঙ্গা বা আটককৃতকে বাঁচাতে না পারলেও পরে গুলি চালাতে শুরু করে। এতে অনেকে আহত হয়েছেন। তবে কেউ মারা গেছেন কীনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নাগাল্যান্ড পুলিশের মহানির্দেশক এল এল ডউঙ্গেল জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে নাগাল্যান্ডের রাজধানী ডিমাপুরে প্রায় দশ হাজার মানুষ কারাগার ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে পড়েন।
সৈয়দ ফরিদ খান নামের এক ব্যক্তি ধর্ষণের অভিযোগে সেখানে আটক ছিলেন।
উত্তেজিত জনতা মি. খানকে জেলের মধ্যেই মারতে থাকে। জেলরক্ষীরা সংখ্যায় কম থাকায় প্রথমে কিছুই করতে পারেন নি ওই বিপুল সংখ্যক মানুষের রোষে।
মি. খান জেলেই মারা যান, তাকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়ার সময় পাওয়া যায় নি বলে জানান মি. ডউঙ্গেল।
তবে ডিমাপুরের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, ওই ব্যক্তির মৃতদেহ ডিমাপুরের ক্লক টাওয়ারে টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছে।
পুলিশ মহানির্দেশক জানিয়েছেন সৈয়দ ফরিদ খান নামের ওই ব্যক্তি আসাম থেকে আসা বাংলাভাষী মুসলমান এবং সম্ভবত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।
তিনি ২৩ ফেব্রুয়ারি এক স্থানীয় নাগা নারীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল থেকেই ওই ব্যক্তির কঠোর শাস্তির দাবিতে নাগা সংগঠনগুলি আন্দোলন শুরু করেছিল।
তারা বাংলাভাষী মুসলমানদের অনেকগুলি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা আন্দোলনের এক পর্যায়ে নাগাল্যান্ডে সব বাংলাভাষী মুসলমানদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করতে হবে বলে দাবি জানান।
এরকমই অপর একটি মিছিল শুক্রবার হঠাৎ ডিমাপুর জেলের দিকে চলে যায়। যাতে অনেক স্থানীয় মানুষও যোগ দেয় বলে পুলিশ জানায়।
