ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৫, ০২:৩০

গত ২ মাস ধরে লাগাতার অবরোধ ও হরতালের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে বেশিরভাগ হোটেল ও রেস্তোরাঁ এখনও বন্ধ হয়ে আছে। বেচা-বিক্রি না থাকায় ও সহিংসতার কবলে পড়ার আশংকায় হোটেল ও রেস্তোরাঁর মালিকরা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছেন। এতে বেকার হয়ে পড়েছে এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কমপক্ষে ৫ সহস্রাধিক মানুষ। এতে অপরাধ প্রবণতাও ক্রমে বেড়ে চলেছে। এসব মানুষজনের বেশিরভাগ সাংসারিক খরচ জোগাতে গিয়ে কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন শহর ও গ্রামে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের দুইপার্শ্বে এবং কুমিল্লা-সিলেট, কুমিল্লা-চাঁদপুর, কুমিল্লা-লক্ষ্মীপুরসহ অন্যান্য আঞ্চলিক সড়ক ঘিরে খাওয়া-দাওয়া ও আবাসিকসহ ছোট-বড় ৫ শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আর থেমে থেমে হরতালের কবলে পড়ে ক্রমে বন্ধ হয়ে পড়েছে সড়ক-মহাসড়ক ঘিরে গড়ে তোলা সিংহভাগ অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট। এতে বেকার হয়ে পড়েছে এসব হোটেল-রেস্তোরাঁর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকসহ কমপক্ষে ৫ সহস্রাধিক শ্রমজীবী।
অবরোধ শুরুর সপ্তাহের মধ্যে বেচা-বিক্রি না থাকায় মহাসড়কের পার্শ্বস্থ অভিজাত হোটেলগুলোর মধ্যে ‘টাইমস্ স্কয়ার’, ‘হাইওয়ে ইন, গ্রীন ভিউ’, ‘তাজমহল’, ‘কানন’, ‘ভিটাওয়ার্ল্ড’, ‘অফবিট’, ‘ডলি রিসোর্ট’সহ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন হোটেল বন্ধ করে দেয়া হয়। হোটেল হাইওয়ে ইন এর কর্মকর্তা নুরু মিয়া জানান, ‘এ হোটেলে ২ শতাধিক কর্মচারী রয়েছে। হোটেলে বেচা-বিক্রি নেই। তাদের বেতন ও খাওয়ার খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না বিধায় হোটেল বন্ধ রাখা হয়েছে।’ কয়েকজন হোটেল মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘অবরোধের শুরুতে দূরপাল্লার গাড়ি একেবারে চলাচল করেনি। এসব হোটেল মহাসড়কের বিভিন্ন যানবাহন ও দূরপাল্লার গাড়ির যাত্রীদের উপর নির্ভর করে চলে। অবরোধ-হরতালের কারণে বেচা-বিক্রি না থাকায় লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। এতে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ ও মাসিক ভাড়ার টাকা পরিশোধ করতে না পারার আশংকায় এবং পেট্রোল বোমা ও অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার ঝুঁকি এড়াতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি।
মহাসড়কের আলেখারচর এলাকার ‘হোটেল মিয়ামীর’ একজন কর্মকর্তা জানান, ‘আগের তুলনায় বেচা-বিক্রি সিকিভাগও হচ্ছে না। কর্মচারী-শ্রমিকদের দিকে তাকিয়ে খোলা রাখা হলেও হোটেল পরিচালনা ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে কর্তৃপক্ষকে ভর্তুকি গুণতে হচ্ছে। এ অবস্থায় কতদিন চালানো যাবে-জানি না। এ হোটেলটি বন্ধ করে দেয়া হলে ৪ শতাধিক কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বে।’ এছাড়া ছোটখাটো কিছু হোটেল খোলা থাকলেও বেচা-বিক্রি নেই বললেই চলে।

এসব হোটেলের শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে এখন ছুটে চলছেন ইপিজেড ও বিভিন্ন শিল্প-কারখানায়। কেউবা পরিবারের সদস্যদের আহার জোগাতে অটোরিকশা বা ঠেলাগাড়ি চালাচ্ছেন, আবার কেউ শহরে কাজের সন্ধান করতে না পেরে গ্রামে ছুটে গিয়ে কৃষিকাজ বা দৈনিক মজুরির কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। বেকার হয়ে পড়া অনেকে ছিনতাই, চোরাচালান ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িয়ে পড়েছেন। দেশে এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে বেকারত্বের পাশাপাশি অপরাধ ক্রমে বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞগণ।