রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণে আহত ২০ ছয়জনকে গণপিটুনি

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৫, ২৩:২৮

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের হরতাল-অবরোধের মধ্যে গতকাল শনিবার রাজধানীতে পৃথক চারটি স্থানে দুর্বৃত্তদের নিক্ষিপ্ত ককটেল বিস্ফোরণে এক চিকিত্সকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে জনতা ৬ জনকে গণপিটুনি নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। শহীদ মিনার, শিক্ষাভবন ও শান্তিনগর ও কারওয়ানবাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। কারওয়ান বাজারে পর পর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। গতকাল শনিবার দুপুর সোয়া তিনটায় এই বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহর ঘটনাস্থল অতিক্রম করে। এসময় প্রধানমন্ত্রী ৭ই মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। এই বিস্ফোরণে একজন পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।

তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার প্রায় দশ মিনিট পর কারওয়ান বাজারের আন্ডারপাসের কাছে পর পর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে তেজগাঁও থানার এএসআই মাহবুব সামান্য আহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন হারুন নামে এক যুবককে আটক করেছে। তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে তিনটার দিকে ডিউটি শেষে রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সক মাহনাজ তাবাসুম প্রভা। এ সময় তিনি শহীদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন। দুপুর সোয়া দুইটার দিকে শান্তিনগর এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা ককটেল হামলা চালালে ৫ কর্মী আহত হন। প্রায় একই সময় শিক্ষা ভবনের সামনে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশমুখে রামপুরা থেকে আসা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি বাসে পর পর ৪/৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে ১৪ জন আহত হয়। এ সময় জনতা তিনজনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এরা হচ্ছে নাজমুল হোসেন, রইসউদ্দিন ও আদর হোসেন। অপরদিকে দুপুর দেড়টার দিকে বনানী ১৮ নম্বর রোডে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর সময় দুইজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।