বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ রবিবার এক বিবৃতিতে সাতই মার্চে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তিনি বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড ঘোষণা করেছেন ৭ মার্চের প্রকাশ্য জনসভায়। আইন-আদালত, বিচার ব্যবস্থার কোন কার্যকারিতা এরপরে আর অবশিষ্ট থাকেনা। যুক্তির বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ কখনোই শুভ ফল বয়ে আনবে না। র্যাব, পুলিশ, বিজিবিকে গণহত্যার হুকুম দিয়ে তার দায়ভার সরকার নিজের কাঁধে তুলে নিলেও এরজন্য দায়ী কেউই বিচারের হাত থেকে রেহাই পাবেনা। অতএব, গণতন্ত্রের পথে আসুন। দেশকে বাঁচান, মানুষ বাঁচান এবং নিজেরাও বাঁচার চেষ্টা করুন।’
তিনি বলেন, সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটকে জঙ্গীবাদের সমস্যা হিসেবে বাজারজাত করার ভাংগা ক্যাসেটটি আওয়ামী লীগ বাজিয়েই যাচ্ছে। সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বিএনপি ও ২০ দল ঐতিহাসিকভাবে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আওয়ামী লীগের ‘ভুয়া’ নির্বাচনের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক মহাদুর্যোগের দায় দেশের জনগণ নিবে না। সেই ভুলের খেসারত আওয়ামী লীগকেই দিতে হবে। রাজনৈতিক সংকটকে আড়াল করতেই আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের জিকির তুলে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে চায়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নিজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১৩টিরও অধিক মামলায় তাকে কোনদিন হাজিরাও দিতে হয়নি, মোকাবেলাও করতে হয়নি; নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থার কল্যাণে তাকে সকল মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আওয়ামী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। আওয়ামী মন্ত্রী-এমপি’দের বিরুদ্ধে দুদকের আওতাধীন সকল অভিযোগ ও মামলায় দায়মুক্তি সনদ প্রদানের হিড়িক পড়েছে। মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগও শেষ পর্যন্ত আমলে নেয়া হয়নি। হলফনামার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি’দের স্বঘোষিত দুর্নীতির খতিয়ান দেশের জনগণ ও সারাবিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে।
