ভাষা শিখে বিদেশ গমন, ১৪ তরুণের ভাগ্য বদল

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৫, ০১:১৩

কোরিয়ান ভাষা শিখে যথাযথ পরিক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে শুধুমাত্র বিমান ভাড়ার খরচে দক্ষিণ কোরিয়া গমন করে কুষ্টিয়া মিরপুরের ১৪ তরুণ অভাবণীয়ভাবে ভাগ্য বদল করেছে। ভাগ্য বদলানো ১৪ তরুণ হলোঃ উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের ধুবইল গ্রামের রুবায়েত (৩২), সুজন (৩০), মিরপুর পৌরসভা এলাকার আরিফুল হক রানা (২৫), মহাম্মদ ছোটন (২২), রাশেদ খাঁন মিলন (২৪), আমিরুল ইসলাম (২৭), ইসমাইল হোসেন (৩০), রয়েল (২৮), বোরহান (৩২), ইউসুফ (৩২) ও ছাতিয়ান ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের আজিম (২৮), নাদিম (২৯) ও ইকবাল (২৯)। এছাড়াও উপজেলার অর্ধশতাধিক তরুণ দক্ষিণ কোরিয়া যাবার অপেক্ষায় রয়েছে।

জানা যায়, ২০০৮ সালে উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের ধুবইল গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে রুবায়েত ঢাকা থেকে কোরিয়াণ ভাষা শিখে মিরপুর থানার সামনে শনিবার হাট এলাকায় কোরিয়ান ভাষা শিক্ষার কোচিং সেন্টার স্থাপন করেন। অত্র এলাকার হতাশা পিড়িত  কয়েকজন বেকার তরুণ ওই কেন্দ্রে ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন। ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরিফুল হক রানা, কাজী জুবায়ের হোসেন ও জনি। তাঁরা কোরিয়ান ভাষা শিখেও ভাগ্য বদল করতে না পারায় তাদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দেয়। এরই মধ্যে ২০১২ সালে ওই কোচিং সেন্টারের শিক্ষক রুবায়েত হোসেন কোরিয়ান ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আবেদন করে লটারীর মাধ্যমে অনলাইনে ভাষা পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ পায়। পরীক্ষায় জুবায়ের কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যাবার সুবর্ণ সুযোগ পায়। সাফল্যের সেই শুরু। এরপর কোচিং সেন্টারের দায়িত্ব বর্তায় আরিফুল হক রানার উপর। রানাও একই বছর দক্ষিণ কোরিয়া যাবার সুযোগ পায়। ২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সাল ওই ২ বছরে মিরপুর উপজেলা থেকে উল্লেখিত ১৪ তরুণ উচ্চ শিক্ষিত না হয়েও শুধুমাত্র কোরিয়ান ভাষা শিখে অনলাইনে ভাষা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সুনামের দায়িত্ব পালন করছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় তারা বাংলাদেশী টাকায় সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা মাসিক বেতন পায়। একই সাথে তারা এখন দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী হিসাবে আত্মমর্যাদার সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। গত ২ বছরে দেশে ওই ১৪ তরুণের পরিবার গাড়ী বাড়ীর মালিক হবার পাশাপাশি আশাতিত আর্থিক মুক্তি লাভ করেছে।