১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন , “বেগম খালেদা জিয়া আসলে নির্বাচন চাননা, আসলে তিনি চান জ্বালাও পোড়াও করে ৭১ এর ঘাতকদের রক্ষা আর নিজের দুর্নীতির মামলা থেকে রেহাই পেতে চান। কিন্তু জ্বালাও পোড়াও করে কোন লাভ হবেনা । একাত্তরের ঘাতকদের বিচার চলছে , চলবে । কেউ ঠেকাতে পারবেনা । আর নির্বাচনও হবে , তবে ২০১৯ সালে , তার আগে নয় । ”
তিনি বলেন , “বেগম খালেদা জিয়া চাইলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আগে শেখ হাসিনার দেয়া প্রস্তাবে রাজি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সহ হয়ে ৫ টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচনে আসতেন । কিন্তু তিনি তা করেননি । ভেবেছিলেন জ্বালাও পোড়াও করে নির্বাচন ঠেকানো যাবে । দেশের মানুষ সেদিন ভয় ভীতির মধ্যেও ভোট দিয়েছে । নির্বাচন হয়েছে । বর্তমানে আবার বেগম জিয়া নির্বাচনের দাবি তুলে জ্বালাও পোড়াও করছেন । আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারছেন । এসব করে কোন লাভ হবেনা । ”
শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আবারও দৃঢ়তার সাথে ঘোষনা করে ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিলেন, ‘ ২০১৯ সালের আগে নির্বাচন হবেনা, সংলাপও হবেনা । কোন খুনির সাথে রাজাকারের সাথে সংলাপ হতে পারেনা । আর আগামী নির্বাচনও শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই হবে। সেই নির্বাচনে জনগণ যাকে চাইবে তারাই ক্ষমতায় আসবে ।’
একইসাথে তিনি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ২০১৯ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন , “যদি সাহস থাকে ,তবে মাঠে আসুন । ২০১৯ সালের নির্বাচনে অংশ নিন । মাঠে খেলা হবে । সেখানে যে জিতবে সেই ক্ষমতায় যাবে । জনগণ চাইলে আপনি ক্ষমতায় যাবেন , আমরা বিরোধী দলে থাকবো । কিন্তু ভয় দেখিয়ে মানুষ হত্যা করে কোন লাভ হবেনা । ”
মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়ার গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৪ দল আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি- জামায়াত জোটের দেশব্যাপী সন্ত্রাস , নৈরাজ্য, পেট্রোলবোমা হামলা ,অগ্নিসংযোগ ও মানুষ পুড়িয়ে মারার প্রতিবাদে ১৪ দল এই জনসভার আয়োজন করে ।
বগুড়ার গাবতরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ.এইচ.আজম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ূয়া ,বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি , আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর মান্নান এমপি, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র আহবায়ক রেজাউল রশিদ খান , গণ আজাদী লীগের সহ- সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউল্লাহ্ খান , , ন্যাপ (ঐক্য)’র সহ-সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন , জাতয়ি পার্টি (জেপি)’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহম্মেদ মুক্তার , কমিনিষ্ট পার্টিনেতা ডাঃ ওয়াজেদুল ইসলাম, গনতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদত হোসেন, বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন সহ স্থানীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ ।
বেগম খালেদা জিয়াকে লজ্জা সরম ভুলে বেড়িয়ে এসে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য আহবান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম বলেন , “২০১৯ সালের আগে এদেশে কোন জাতীয় নির্বাচন হবে না। সে জন্য মাঠে আসুন । মাঠেই খেলা হবে । যতই যড়যন্ত্র হোক না কেন কোন অসাংবিধানিক সরকারকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না। খুনি রাজাকার নৈরাজ্যকারী পেট্টোল বোমা মেরে মানুষ হত্যাকারীদের সাথে কোন সংলাপ হবে না। ২০১৯ সালেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । ”
বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন , সেময় যদি বিএনপি আসে , তখন মাঠে খেলা হবে । সে খেলায় আবারও ইনশাল্লাহ্ আওয়ামলীগই জয়ী হবে । এদেশের মানুষ দানব নয় মানবের নেত্রীকেই বিজয়ী করবে ।
নামি বলেন , “২০০৫ সালে শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে ৫ টি গুরুত্বপুর্ন মন্ত্রণালয় ছেড়েদিয়ে নির্বাচনের আহবান জানালেও খালেদা জিয়া জামায়াতকে নিয়ে অবরোধ হরতাল জ্বালাও পোড়াও মানুষ খুনের পথ বেছে নিলেন। আর এতে প্রমাণ হয় খালেদা জিয়া দানবের নেত্রী, আর শেখ হাসিনা মানবের নেত্রী। ”
স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন , সাংবিধানিকভাবেই ২০১৯ সালের আগে কোন নির্বাচন হবেনা। আর সেই নির্বাচন হবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে । তাই তার আগে কোন সংলাপও হবেনা । জ্বলাও পোড়াও করে ভয় দেখিয়ে সরকারকে হঠানো যাবেনা । জনগণের প্রতি আস্থা থাকলে রাজণীতির মাঠে আসুন । কিন্তু জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক খুনিদের সঙ্গে কোন সংলাপ হবেনা। সরকার ও আওয়ামলীগকে ভয় দেখিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে লাভ নেই- আওয়ামীলীগ সংগ্রামী দল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ডিজিটাল উন্নয়ন হচ্ছে, এধারা অব্যাহত থাকবে ।
১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন , “যে কেউ সভা সমাবেশ করবে -তাতে কোন বাঁধা নেই ্, কিন্তু সভা সমাবেশের নামে জ্বালাও পোড়াও করবে - দেশের মানুষের ক্ষতি করবে -তা করতে দেয়া হবেনা । আন্দোলনের নামে, জ্বালাও, পোড়াও, বোমাবাজি, হত্যাসহ যে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাম্যবাদী দলের সভাপতি সাবেক শিল্প মন্ত্রী দিলীপ বড়ূয়া বলেন , “দেশ যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে হাঁটছে , তখন বিএনপির নেতৃত্বে জামায়াত শিবির দেশে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে । জাতীয় অস্তি¡ত্বকে হুমকির সম্মুখিন করে তুলছে । তাই স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে রুখে দিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে । শেখ হাসিনার হাতকে শক্তি শালী করতে হবে । ”
জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহম্মেদ মুক্তার বলেন , মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি বিএনপি -জামায়াত জোট এদেশকে তালেবানী রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে । কিন্তু যতই ষড়যন্ত্র করুক কোন লাভ হবেনা । মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এদেশের প্রতিটি মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে বদ্ধ পরিকর । একইসাথে দেশে যে উন্নয়নের ধারা চলছে , তা অব্যাহত রাখতে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকে প্রতিহত করার জন্যও তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান ।