অস্থিরতা না থাকলে আমাদের অর্জনে বহির্বিশ্ব ঈর্ষান্বিত হতো: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৫, ০৩:২৪

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী, জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আমাদের সম্পদের অপচয় যদি না হতো, এই অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা যদি না থাকতো এবং ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে রেষারেষি না থাকত তা হলে আমরা যা অর্জন করছি তাতে বহির্বিশ্ব ঈর্ষান্বিত হতো। বিগত ৪৬ বছরে আমাদের অর্জন হতো আরো বেশি। তিনি বলেন, অর্থনীতির অনগ্রগতি, অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব, উগ্রবাদ, মৌলবাদ যেভাবে শিল্পন্নোত অনেক রাষ্ট্রকে ও রাষ্ট্রের মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে সে তুলনায় আমরা ভালই করছিলাম। পৃথিবীর নৈরাশ্যবাদীরা  যারা একদিন আমাদের অভুক্ত, অর্ধভুক্ত ছিলাম বলে জানত তারাও সেই অবস্থার পরিবর্তন দেখে আমাদের প্রশংসা করছিল। এই রকম অবস্থায় আমাদের দেশের রাজনীতি বহির্বিশ্বে আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। কিন্তু আমাদের রাজনীতি এই অবস্থায় গেল কেন? তিনি বলেন, মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি কেন শুরু হল? এসব কর্মকাণ্ড অর্থনৈতিক পট পরিবর্তনের জন্য যে বাধার সৃষ্টি করছে তা ওই সমস্ত রাজনীতিবিদরা এখনও তোয়াক্কা করে না।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল বুধবার বিকেলে সিলেটের ওসমানীনগরে খাদিমপুর নছিব উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘প্রবাসী বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্ট’-এর বৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের সভাপতি বদরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট-২ আসনের এমপি ইয়াহিয়া চৌধুরী, সাবেক এমপি শাহ আজিজুর রহমান, শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুর রহমান, উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, ট্রাস্টের সেক্রেটারি হারুন-অর-রশিদ, বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ট্রাস্টের উদ্যোক্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আমাদের জীবনে অনেক অনুষ্ঠান করেছি। অনেক অনুষ্ঠানে উপস্থিতও ছিলাম। কিন্তু আজকের অনুষ্ঠানটি একটি অনন্য অনুষ্ঠান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আন্দোলন-সংগ্রাম নতুন কিছু নয়। পরাধীনতার আমলেও আন্দোলন হয়েছে। যেটা ছিল জনগণ সম্পৃক্ত আন্দোলন। এখনকার আন্দোলন জনসম্পৃক্ত নয়। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, জনগণ কি বুঝতে পারছে, এটি কি তাদের জন্য আন্দোলন। এই রাজনীতি তাদের পক্ষে না বিপক্ষে?
প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, দেশের মাটি ও পরিবার পরিজনের প্রতি তাদের যে নাড়ির টান তা প্রশংসনীয়। বিদেশে থেকে আপনারা লক্ষ্য করেছেন, বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতি তারা লড়াই করে যাচ্ছে। এই লড়াইয়ে তারা সফল হবেই। কোন অপশক্তি তা রোধ করতে পারবে না।
মন্ত্রী বলেন, আপনারা হতাশ হবেন না। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিদেশে যেভাবে মুখ উজ্জ্বল করেছে ইনশাল্লাহ তা অব্যাহত থাকবে। স্বাধীনতার সুফল ও মানুষের মঙ্গলের জন্য হিংসা-বিদ্বেষ থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বালাগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৪৯টি কলেজ, বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার এক হাজার একশ’ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ লাখ টাকা বৃত্তি বিতরণ করা হয়। এর আগে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রীকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মাও. ছরওয়ারে জাহান, আব্দুল মুকিদ আজদ, উমরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, বুরুঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মকদ্দুছ আলী, গোয়ালা বাজার ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক, অধ্যাপক মাহমুদ মিয়া। উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি আব্দুল কদ্দুছ শেখ, মকবুল আলী, সিলেট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রোমান মিয়া, ট্রাস্টি আয়াছ মিয়া, শওকত আহমদ সায়মন, কবির উদ্দিন, আব্দাল মিয়া, আনা মিয়া, সৈয়দ আকামত আলী রুবেল, কাজী হেলাল, আব্দুল মতিন মছব্বি, শেখ নুরুল ইসলাম জিতু, জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবুল কাশেম মন্টু, সাবেক সহ-সভাপতি সুফি মাহমুদ, উপজেলা জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক মো. আশিক মিয়া, ওসমানীনগর আদর্শ সমিতির সভাপতি নুরুল হক, সাদিকুর রহমান শিবলী, আবুল কালাম আজাদ, জয়নাল আবেদীন, আতিকুর রহমান লেবু।
এর আগে সকালে মন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেটের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম, এসপি নূরে আলম, এডিশনাল এসপি রওশনুজ্জামান, সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (জেপি)র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ইফতেখার আহমদ লিমন ও জেপির অর্ধ-শতাধিক নেতাকর্মী।
ওসমানীনগর সংবাদদাতা জানান, বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো এলাকায় উত্সবের আমেজ সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এলাকা ছিল সরগরম।
বিশ্বনাথে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে সংবর্ধনা
এর আগে গতকাল দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথে দেওকলস দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ গভর্নিং বডি  আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সম্মানে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে।
আমাদের বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা তজম্মুল আলী জানান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, সিলেট আমাদের দেশের গৌরব। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে সিলেট সব সময় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান, এস এ এম এস কিবরিয়া ও আবুল মাল আব্দুল মুহিত সিলেটের গৌরব। তিনি বলেন, গত ৩০ বছরে সিলেটের বহু উন্নয়ন হয়েছে। আরো উন্নয়ন দরকার। তাই পরস্পর সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার বিকল্প নেই। মেধা ও সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আমাদের অর্জনকে বাড়াতে হবে। উন্নয়নের জন্য দেশে স্থিতিশীলতার প্রয়োজন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, গত দুই মাসে হরতাল-অবরোধে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে তা দিয়ে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ করা যেত। শিক্ষা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সহিংস রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, গত আড়াই মাসে সহিংসতায় দেশে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। যা দিয়ে দেশের স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাটসহ বহু উন্নয়ন হতো।
গতকাল বিশ্বনাথে দেওকলস দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে তাঁর সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন।
বিদ্যালয় ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল আহমদ মতছিন-এর সভাপতিত্বে ও অধ্যক্ষ আব্দুল মুকিদের পরিচালনায় সংবর্ধনা সভায় মন্ত্রী আরো বলেন, সিলেটের যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তন-পরিবর্ধন এগুলো দীর্ঘদিন পরে আসায় বুঝতে পারছি। ধীরে ধীরে আরো উন্নয়ন হবে। এজন্য নিজ নিজ এলাকার সংসদ সদস্যকে সহযোগিতা করতে হবে।
সংবর্ধনা শেষে মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে গোদামঘাট-গাজীর মোকাম সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভাটিখাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এদিকে মন্ত্রীকে দেওকলস মাইজগ্রাম মাদ্রাসার গেটে ফুল দিয়ে বরণ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
দেওকলস দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ গভর্নিং বডি আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান। তার বক্তব্যে বলেছেন, ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার জন্য মাল্টিমিডিয়া বই তৈরি হচ্ছে। এতে যে কোন সময় ছেলে-মেয়েরা বই পড়তে পারবে। তিন মাস হরতাল হলেও একমাসে তারা কাজ শেষ করতে পারবে।
সংবর্ধনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি (জেপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সচিব ইফতেখার হোসেন লিমন, মন্ত্রীর একান্ত সচিব অনল চন্দ্র দাশ, বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আসাদুল হক, বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুর রহমান, সিলেটের এডিশনাল এসপি রওশনুজ্জামান, বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. রফিকুল হোসেন, বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ তরিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গিয়াসউদ্দিন আহমদ, সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির নেতা সূফি মাহমুদ,  সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেওকলস দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য মো. মানিকুর রহমান, আপ্তাব আলী, সুন্দর আলী, নজির আলী, মো. সিরাজ মিয়া, আব্দুস সোবহান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক এএইচ.এম ফিরোজ আলী, আওয়ামী লীগ নেতা জবেদুর রহমান, আক্তার হোসেন জুনেদ, সমাজসেবক সালমান চৌধুরী শাম্মী, উপজেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক সিতাব আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম লালু, যুগ্ম-আহবায়ক সুমন আহমদ সুমন, এ.কে.এম দুলাল, মশরফ হোসেন, আজাদ মিয়া, আব্দুল বারী মেম্বার, উম্মর আলী, সালেহ আহমদ তোতা, আবদুল মিয়া, ফারুক মিয়া, ইছবর আলী, সেলিম আহমদ, ফিরোজ আলী, নাছিরউদ্দিন, তরুণ পার্টি নেতা সুহেল আহমদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করে দেওকলস দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম বেগম।
বক্তারা বলেন, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ দেশের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান। তার জন্য আমরা গর্ববোধ করি। তার পিতা বরেণ্য সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার লেখনী এ দেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে ত্বরান্বিত করেছিল।

রাতে সিলেট ভিআইপি সার্কিট হাউজে মন্ত্রী সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন।