তদন্ত শেষ পর্যায়ে, চার্জশিট আটকে আছে নূর হোসেনের

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৫, ১৭:৪৯

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়। কিন্তু ভারতের কারাগারে আটক মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া চার্জশিট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। তবে পুলিশ সুপারের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, কোন আসামি যদি পলাতক থাকে বা তাকে সহসাই গ্রেফতারের কোন সম্ভাবনা না থাকে এবং তদন্তে ওই আসামির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উঠে আসে তাহলে অভিযোগপত্র দাখিল করতে আইনগত কোন বাধা নেই। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির অবস্থান জেনে তাকে দেশে ফেরাতে আদালতে কোন আবেদন দাখিল করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করে সেক্ষেত্রে আসামিকে দেশে না আনা পর্যন্ত চার্জশিট দিতে অপেক্ষা করতে হবে।  এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল জানিয়েছেন, একটি দুরূহ মামলাকে আমরা সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমে তদন্ত করছি। তদন্ত কাজ অনেকটা এগিয়েছে। ইতিমধ্যে র্যাবের শীর্ষ তিন কর্মকর্তাসহ ত্রিশজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে যারা সরাসরি জড়িত তারা ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ফৌজদারি মামলার চার্জশিট দাখিলের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা নেই। ছোটখাট কিছু কাজ বাকি আছে, তাছাড়া এটি বহুল আলোচিত একটি মামলা। নূর হোসেনই মামলার প্রধান আসামি। তাই তার জন্য অপেক্ষা করছি।

এদিকে মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৩০ আসামিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম শফিকুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আগামী ১১ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। মামলার আসামি র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা কর্নেল সাঈদ তারেক, মেজর আরিফ ও লে. কমান্ডার এস এম রানা কে হাতকরা পরানো ছাড়া অবস্থায়  আদালতে হাজির করায় বাদী পক্ষের আইনজীবী ও নিহতদের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্যানেল মেয়র নজরুল, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়ি চালক ইব্রাহিম অপহূত হন। পরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেছেন, সাত খুন মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়। কিন্তু প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ভারত থেকে ফেরত না পাওয়ায় চার্জশিট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কবে নাগাদ নূর হোসেনকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফায় ভারত সকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ মার্চ চিঠি পাঠানো হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত এ চিঠির কোন জবাব পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের এ কর্মকর্তা আশাবাদী খুব শিগগিরই নূর হোসেনকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে।
নূর হোসেনকে কেন আনা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এরই মধ্যে নূর হোসেনের সাজার (অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে) ব্যাপারে ভারতের আদালতে আপিল করা হয়। এ কারণেই জটিলতা তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সাত খুনের ঘটনার পর পরই নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান। এরপর গত বছরের ১৪ জুন কলকাতায় দমদম এলাকা থেকে সে দেশের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।