সন্তু লারমার আগমন ঘিরে সংঘর্ষে আহত ২০

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৫, ০৩:২৮

বান্দরবানে জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমার আগমনকে ঘিরে জেএসএস এবং জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলা শহরের বালাঘাটায় থেমে থেমে চলে এই সংঘর্ষ এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। গতকাল বুধবার দুপুরে সাড়ে বারোটা থেকে দুইটা পর্যন্ত চলে এই ঘটনা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমার আগমনকে ঘিরে জেলা শহরের বালাঘাটায় জেএসএস সমর্থিত পাহাড়ী এবং জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের বাঙালি নেতাকর্মীদের   মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকঘণ্টা থেমে থেমে চলে পাহাড়ী-বাঙালি সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। এ সময় জেএসএস নেতাকর্মীদের গুলতি’র আঘাত এবং বাঙালিদের লাঠিসোটার আঘাতে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাইলা অং, মংব্রাচাই মারমা, মংমংচিং মারমা, পরিতোষ পালের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের বান্দরবান সদর হাসপাতাল এবং একজন’কে উন্নত চিকিত্সার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা করা হয়েছে। এদিকে শহরের মেম্বারপাড়া থেকে মো: হুমায়ুন (২৬) নামে এক বাঙালি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলসহ জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি’সহ অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। টহল জোরদার করা হয়েছে সেনাবাহিনীরও। এদিকে সকাল থেকেই সন্তু লারমার আগমন ঠেকাতে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কের পুলপাড়া এলাকায় বেইলি ব্রিজের পাতাটন খুলে ফেলে, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। সেনাবাহিনী এবং পুলিশ সদস্যরা গিয়ে বেইলী ব্রিজ মেরামত এবং সড়কের ব্যারিকেড তুলে নেয়। সেনাবাহিনী-পুলিশের প্রহরায় দুপুর সোয়া বারেটার সময় জেএসএস সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) তিনদিনের সফরে সড়কপথে বান্দরবান আসেন। ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তু লারমা’কে সড়কপথে জেলা শহরের সার্কিট হাউজে পৌঁছে দেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে সংঘর্ষের পর থেকে বালাঘাটা, বান্দরবান বাজার’সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

জেলা জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা বলেন, জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় জেএসএস এবং পিসিপি’র ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বাঙালিদের উস্কানিতেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতা আবিদুর রহমান বলেন, জনসংহতি সমিতির ছাত্র সংগঠন পিসিপির নেতাকর্মীরা গুলতি ছুড়ে বালাঘাটায় পরিকল্পিতভাবে বাঙালিদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের সংগঠনের ১৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, জেএসএস সভাপতির আগমন’কে ঘিরে বালাঘাটায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরে বিজিবি, সেনাবাহিনী এবং পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।