'নতুন বার্তা' নিয়ে খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৫, ২২:২২
 
অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডেকে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। বিকেল চারটায় নিজ কার্যালয়ে ডাকা এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দল ও জোটের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি 'নতুন বার্তা' দেবেন। উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি সরকারের প্রতিও কিছু আহ্বান রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবরোধ বা হরতালের ক্ষেত্রে নাটকীয় কোনো সিদ্ধান্ত জানিয়ে আন্দোলনে নতুন বাঁক আনার কৌশল ঘোষণা করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ১৯ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ৫২ দিন পর আবার সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেল ইত্তেফাককে বলেন 'চলমান পরিস্থিতিতে দল ও জোটের অবস্থান ব্যাখ্যা করে খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরবেন। সেখানে চলমান আন্দোলনে জোটের নেতা-কর্মীদের হতাহত হওয়াসহ ব্যাপকহারে গ্রেফতার-নির্যাতনের বিস্তারিত চিত্রও তুলে ধরবেন তিনি। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাবে।'
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। তার কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির জন্যও আদালতের নির্দেশ বহাল রয়েছে। এই অবস্থায় তাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেয়া হবে কি-না, তা নিয়ে অবশ্য এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে অবস্থানরত দলীয় নেতা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের। জানা গেছে, যদি সংবাদ সম্মেলন করতে দেয়া না হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে লিখিত বক্তব্য বিবৃতি আকারে গণমাধ্যমকে বিতরণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনায় গত ৩ জানুয়ারি থেকে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া। ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে পুলিশি বাধা পেয়ে গুলশান কার্যালয়ের ফটকের ভেতরেই দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে লাগাতার অবরোধের ডাক দেন তিনি। এরপর কার্যালয়ের সামনে থেকে ইট-বালুর ট্রাক, ভ্যান ও জলকামানসহ অতিরিক্ত পুলিশ সরে যাওয়ার দিন, সর্বশেষ গত ১৯ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। ওইদিন জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীও ছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর ফাঁকে ২৭ জানুয়ারি ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় এলে তাকে শেষ বিদায় জানাতে কার্যালয়ের দোতলা থেকে নিচে নেমেছিলেন 'নির্বাক' বিএনপি চেয়ারপারসন। এরপর তিন দফায় কূটনীতিকরা তার সঙ্গে ওই কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন। 
কোকোর মৃত্যুর পর ওই কার্যালয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের যাতায়াত কিছুটা অবাধ হলেও ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ফের ওই কার্যালয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ শুরু করে পুলিশ। সেই সঙ্গে কেটে দেয়া হয় কেবল টিভি ও ইন্টারনেট সংযোগ। মাঝে একবার ওই কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল টানা ১৯ ঘণ্টা। খালেদা জিয়ার খাবার নিয়ে স্বজনদের ঢুকতে দিলেও অন্যদের খাবার সেখানে প্রবেশে পুলিশের কড়াকড়ি এখনও বহাল রয়েছে।
সালাহউদ্দিনের মুক্তি দাবি
এদিকে, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে অভিযোগ করে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, 'মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির না করা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আটক করার কথা অস্বীকৃতির ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ। আমি এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।'
খালেদা জিয়া বলেন 'আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে রাতের আঁধারে দরজা ভেঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদকে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেয়ার ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের তার ওপর ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার ব্যাপারে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগ গ্রহণে পুলিশের অস্বীকৃতিরও আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।' তিনি বলেন, 'বিএনপির গুররুত্বপূর্ণ নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ সারা দেশে শত শত নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের পর অস্বীকারের উদ্বেগজনক প্রবণতাও এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘটনায় আমরা দারুণভাবে উতকণ্ঠিত। ক্ষমতাসীনেরা এর দায় এড়াতে পারে না এবং তাদের কোনো কৈফিয়ত্ কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হবে না।'
বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন আরও বলেন, 'জনপ্রতিধিত্বহীন শাসকগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচারিতা দেশে এখন এক চরম অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। যাকে যখন ইচ্ছা গ্রেপ্তার, অপহরণ, গুম ও খুন করা হচ্ছে। গ্রেফতারের পর অনেকের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের হদিসও মিলছে না।' তিনি বলেন 'গ্রেফতারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্বীকারের প্রবণতা এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম-মহাসচিব রুহুলকবির রিজভী আহমেদকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে সালাহউদ্দিন দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের হয়ে কেউ কথা বললেই বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তাকে গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়ার এক স্বৈররীতি চালু করেছে।'