যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ৪৭ জন

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৫, ০১:২৭

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন পেট্রোল বোমায় দগ্ধদের শরীরে দিনদিন নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থান কুঁচকে যাচ্ছে। কারো আবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অনেকেরই মৃত্যু হচ্ছে। চিকিত্সাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা বলছেন, পেট্রোল বোমায় দগ্ধ যে সব রোগী ভর্তি রয়েছে, তাদের কেউই আশঙ্কামুক্ত নয়। কারণ গত বছর তিন মাস চিকিত্সাধীন থাকার পরও কারো কারো মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ ৪৭ জন এখানে ভর্তি রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রোল বোমায় দগ্ধ রোগীদের স্বজনরা দৌঁড়ঝাঁপ করছেন। নার্সদের পাশাপাশি স্বজনরা দগ্ধ রোগীদের সেবা করছেন। আইসিইউ’তে ভর্তি রয়েছে ৪ জন, যাদের অবস্থা চরম শঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক। বার্ন ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, পেট্রোল বোমায় দগ্ধ রোগীদের পাশাপাশি সাধারণ রোগীদেরও যথাযথ চিকিত্সা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে গতকাল সকালে বার্ন ইউনিটের ২য় তলায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০/৩০ জন রোগী-ছোট বড় নানা ধরণের অপারেশনের জন্য একটি রুমে জড়ো হয়ে আছেন। এর মধ্যে পুরাতন রোগীও রয়েছেন। এ বিষয়ে বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্ন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. সাজ্জাদ খোন্দকার জানান, পেট্রোল বোমায় দগ্ধ রোগীদের চামড়া ও ক্ষতস্থান শুকিয়ে উঠছে। ফলে বাড়ছে অপারেশনের সংখ্যাও। এছাড়া যারা চিকিত্সা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন তারাও ছোটখাট অপারেশনের জন্য আসছেন। অধিকাংশ দগ্ধ রোগীর চামড়া কুঁচকে যাওয়ায় তাদের বার বার অপারেশন করাতে হচ্ছে।

পেট্রোল বোমায় দগ্ধ ফার্মাসিস্ট সাঈদা ফাতেম নতুন করে বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। জানালেন গত সপ্তাহে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিলেন। বর্তমানে হাত ও কানের অবস্থা খারাপ হওয়ায় পুনরায় ভর্তি হতে হয়েছে। হাতের অপারেশন করা হয়েছে। পেইং ওয়ার্ডে থাকা লেগুনা চালক সেলিম মিয়ার বেশ কয়েকটি অপারেশন করা হয়েছে। চিকিত্সাধীন টুম্পা ও কুনতলা এখনও আশঙ্কামুক্ত নন। তারা দু’জন সম্পর্কে খালাতো বোন।  ১ মার্চ রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় বাসে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হন এ দু’বোন। টুম্পা আইসিইউ’তে ভর্তি রয়েছেন। কুনতলা ৬ তলার কেবিনে রয়েছেন।