তরুণীর লাশের ৭ টুকরা নেয়নি পরিবার

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৫, ০৮:০৯
 
 
 
এগুলো তার বোনের লাশের টুকরা। কিন্তু এই লাশ নিয়ে আর কী হবে। লাশের সাত টুকরা আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামে দেয়া হবে। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ফকিরাপুল থেকে উদ্ধার হওয়া সুমি আক্তারের (২৩) লাশের সাত টুকরা শনাক্ত করার পর তার ভাই মামুন হোসেন এসব কথা বলেন। পুলিশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামুন হোসেন গতকাল রাজশাহীর পবা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে এসে তার বোনের লাশ শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদক বিক্রি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিপক্ষরা ঐ তরুণীকে হত্যার পর লাশ টুকরা টুকরা করেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীরা পলাতক রয়েছেন। 
নিহত সুমি আক্তারের ভাই মামুন হোসেন জানান, সুমি ফকিরাপুলে একটি বিউটি পার্লারে বিউটিশিয়ান ছিল। দেড় বছর আগে নাসির মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে সে পরিবারের অমতে বিয়ে করে। এরপর থেকেই তার সঙ্গে মামুনদের আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। বিয়ের পর সুমি পার্লারের চাকরি ছেড়ে দেয়। তার স্বামী নাসির একজন মাদক ব্যবসায়ী। ফকিরাপুলের ২৪৭, গরম পানির গলিতে স্বামীর সঙ্গে থাকতো সে।
হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান জানান, গত ৫ মার্চ সুমির স্বামী নাসির উদ্দিনকে পুলিশ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। এ সময়  ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের জেল দেয়। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা নাসিরকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে বলে সুমি অভিযোগ করে। এই নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুমির দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণেই সুমিকে খুন করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, ফকিরাপুলের ১৯৩/১ নম্বরে রোকেয়া আহসান মঞ্জিল নামে একটি ভবনের ছাদে সুমির মাথার অংশসহ বেশির ভাগ আলামত পাওয়া যায়। বাড়ির মালিক মোবারক উল্লাহ মন্টি ও তপু নামের দুই ভাই। হত্যাকাণ্ডের পর তারা গা-ঢাকা দিয়েছেন। মন্টি ও তপু মাদকাসক্ত এবং সুমি ও কারাবন্দি নাসিরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। ঐ বাড়িতে মাদকের একটি আখড়া ছিল। তবে এমনও হতে পারে ঘাতকরা অন্য কোথাও সুমিকে হত্যা করে মন্টি ও তপুকে ফাঁসানোর জন্য লাশের টুকরা বাড়ির ছাদে ফেলে দেয়। এ কারণে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।