উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মধ্যেই এবার ঢাকার দুই (উত্তর ও দক্ষিণ) সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এই দুই সিটির নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তবে পরীক্ষার মধ্যে নির্বাচন হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত কমপক্ষে ৮টি বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর যদি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হয় সেক্ষেত্রে ৪টি বিষয়ের পরীক্ষা পেছাতে পারে।
পরীক্ষা পিছিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে এসএসসিতে কিছু বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। আবার ১ এপ্রিল থেকে ১১ জুন এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে। ১৮ বা ১৯ জুন থেকে রোজা ?শুরু হবে। তাই রোজা শুরু হওয়ার আগে পরীক্ষার মধ্যেই যে কোনো একটি গ্যাপে নির্বাচন করে ফেলবো।’
সিইসি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য অন্তত ৫ দিনের গ্যাপ দরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে শুক্র ও শনিবার এসএসসি পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এমন অবস্থা যদি চলতে থাকে তবে যেন ওই দুই দিন ছাড়া ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়।’
ইসির সংশ্লিষ্টরা ইত্তেফাককে জানান, পরীক্ষা স্থগিত ছাড়া ঈদের আগে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না। কারণ যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা হবে-সেখানেই ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষা পেছানোর জন্য বলা হবে।
পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্বপন কুমার সরকার ইত্তেফাককে বলেন, কবে নাগাদ নির্বাচন হবে তা আমরা জানি না। তবে পরীক্ষা পেছানো লাগলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন হলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের প্রকাশিত পরীক্ষা সূচি অনুযায়ী কমপক্ষে ৮টি বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে :২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য পৌরনীতি ও সুশাসন ২য়পত্র, পৌরনীতি ২য়পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ২য়পত্র, ব্যবসায় উদ্যোগ ও ব্যবহারিক ব্যবস্থাপনা ২য়পত্র, ফিন্যান্স-ব্যাংকিং ও বিমা ২য়পত্র, ইংরেজী শর্টহ্যান্ড (তত্ত্বীয়) ২য়পত্র, ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য মনোবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১মপত্র এবং ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য মনোবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ২য়পত্র পরীক্ষা।
আর ৩০ এপ্রিল থেকে ৭ মে’র মাঝামাঝি ভোট হলে ৪ তারিখের ৪টি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে ৪ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পদার্থ বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১মপত্র, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১মপত্র, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ ১মপত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১মপত্রের পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন ইত্তেফাককে বলেন, এখনো কথা বলার সময় হয়নি। এরবেশি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
নির্বাচনের জন্য ৫দিন সময় লাগার বিষয়ে ইসির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, শিক্ষকরাই প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ওইসব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করতেও একদিন লাগবে। ভোটের আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে অবস্থান গ্রহণ করবে। নির্বাচনী সরঞ্জামও ভোটকেন্দ্রে রাখতে হবে। তাছাড়া ভোটের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ার-টেবিল এলোমেলো থাকবে। সেগুলো প্রস্তুত করতেও সময় লেগে যাবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৬টি ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৮৭ এবং ভোট কক্ষের সংখ্যা ৫ হাজার ৮২৮। আর দক্ষিণ সিটিতে ৫৭টি ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ভোট কেন্দে র সংখ্যা ৮৭৩ এবং ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৩৯। আর অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই হবে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
