বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সংলাপের দাবি আবারো নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগ বলেছে, উনি হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন। এই খুনির সঙ্গে সংলাপের কোন সুযোগ নেই। গতকাল শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্যের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্য মিথ্যাচারে ভরা। মিথ্যাচার করে তিনি জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চান। তবে জনগণ এখন অনেক সচেতন। তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, বিএনপি-জামায়াত জোট সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।
দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার নেই বলে বেগম জিয়ার অভিযোগ খণ্ডন করে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আইনের চোখে খালেদা জিয়া মামলার ফেরার আসামি। একজন ফেরার আসামি হয়ে উনি সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। কিন্তু সরকার তাতে বাধা দেয়নি। এর চেয়ে আর কত গণতান্ত্রিক অধিকার চান উনি?
হানিফ বলেন, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি-জামায়াত জোট সারাদেশে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাসহ জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জোটের নেত্রী গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে সেই কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। আসলে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করাই তার মূল লক্ষ্য। দেশ ও জনগণের প্রতি বিন্দুমাত্র মানবতাবোধ থাকলে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাতে পারতেন না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দিনের পর দিন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আন্দোলন করেছেন। এখনও তিনি পাকিস্তানী ভাবধারায় দেশকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান।
বিএনপি জোটের চলমান নাশকতার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আন্দোলনের নামে খালেদা জিয়া গত ৬৭ দিন যে নাশকতা চালিয়েছেন, তার দায়ভার তিনি কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। এজন্য খালেদা জিয়া ও তার দলের নেতা-কর্মীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে হানিফ বলেন, হত্যার রাজনীতির মধ্য দিয়েই বিএনপির জন্ম। এখনো তারা মিথ্যাচার করছে। বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জনগণ প্রত্যাখ্যান করে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রেখেছে। সরকারের দায়িত্ব সন্ত্রাস দমন করা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সন্ত্রাস দমনে যা করার দরকার তাই করছে।
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়া সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকিয়ে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন। তার নির্দেশেই বিএনপি-জামায়াত জোটের ক্যাডাররা মানুষ হত্যা শুরু করে। এ সময় হামলা চালিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস করা হয়। কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ায় ওই সময় ১৪২ জন সাধারণ মানুষকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করেছে তারা। এ অভিযোগে খালেদা জিয়াকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা শর্তেও তাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, আমরা চাই খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ আইন মেনেই গ্রেফতার করা হোক। তাই যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া মেনেই তাকে গ্রেফতার করা হবে।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বিভিন্ন ব্যক্তিদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার উদাহরণ তুলে ধরে হানিফ বলেন, জিয়াকে মুক্তিযুদ্ধের নায়ক বলার সুযোগ নাই। তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি অনুচর হিসেবে খলনায়কে রূপান্তরিত হয়েছে। ‘বিএনপির শাসনামলে রাজনৈতিক শ্রদ্ধাবোধ ছিল’ মর্মে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়, আহসানউল্লাহ মাস্টার, নাটোরের এমপি মমতাজ উদ্দিনকে হত্যা করা হয় এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা। এই সমস্ত ঘটনাই প্রমাণ করে ওনার রাজনৈতিক শ্রদ্ধাবোধের নমুনা কেমন ছিল। বিএনপি রাজনীতিই হচ্ছে হত্যা এবং খুনের রাজনীতি।
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলেই খালেদা জিয়াও ভোটে আসেননি। কারণ বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের বন্ধু। বন্ধুকে ছাড়া খালেদা জিয়া কীভাবে নির্বাচনে যাবেন? বন্ধুর মন রক্ষা করতে নির্বাচনে না গিয়ে এখনো সহিংসতা চালিয়ে দেশের মানুষকে হত্যা করছেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজীত রায় নন্দী, একেএম এনামুল হক শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
