ভারতে সন্ন্যাসিনীকে গণধর্ষণ : আটক ৮, গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৫, ২২:২০
 
৭১ বছর বয়সী খ্রিস্টান সন্ন্যাসিনীকে গণধর্ষণকারীদের গ্রেফতারে জনগণের সহায়তা চেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কে. এন. ত্রিপাঠি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আট জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে সন্ন্যাসিনীর সুস্থতা কামনা করে রবিবার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের গির্জায় প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজ্যপাল ত্রিপাঠি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনায় রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে। প্রশাসন অবশ্যই দোষীদের ধরে শাস্তি দেবে। দুষ্কৃতকারীদের ধরতে জনগণ সহায়তা করবে বলে আমি আশা করি।’
নদিয়ার পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আটজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। 
শুক্রবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার রানাঘাটের গাঙনাপুরে কনভেন্ট অব জেসাস মেরি স্কুলের ওই সন্ন্যাসিনী গণধর্ষণের শিকার হন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে চিকিৎসকেরা জানান, তার অবস্থা স্থিতিশীল। তবে, রাতের ‘বিভীষিকা’ এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।
পুলিশের ধারণা, রাতে পাঁচিল টপকে স্কুলে ঢুকেছিল কমপক্ষে ৭ জন দুষ্কৃতকারীর একটি দল। স্কুলে ঢোকার পর একমাত্র নাইট গার্ডকে মারধর করে বেঁধে ফেলে তারা। এরপর ঢুকে পড়ে প্রশাসনিক ভবনে। সেখানে আলমারি ভেঙে তারা নগদ প্রায় ১২ লাখ রুপি, ড্রয়ারে থাকা ল্যাপটপ, ক্যামেরা লুট করে। তারপর তারা স্কুল-লাগোয়া সন্ন্যাসিনীদের বাসস্থানের দিকে যায়। তারা সেখানে রান্নাঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে দোতলায় উঠে। তিনটি ঘরে ছিলেন সন্ন্যাসিনীরা। দুষ্কৃতকারীরা দোতলায় উঠতেই ঘুম ভেঙে যায় তাদের। বাধা দিতে গেলে দুষ্কৃতকারীরা তাদের মারধর করে। একপর্যায়ে তারা ৭১ বছর বয়সী সন্ন্যাসিনীকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। তিনি সিআইডিকে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার সময় ওই কক্ষে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ থেকে চার ব্যক্তির চেহারা ধরা পড়েছে। কনভেন্ট অব জিসাস অ্যান্ড মেরি স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরায় দুষ্কৃতকারীদের ছবি দেখে কার্যত চমকে গিয়েছেন গোয়েন্দারা। সিসিটিভির ফুটেজই বলে দিচ্ছে, রাত দেড়টা থেকে টানা তিন,সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে অবাধে স্কুলে দাপিয়ে বেড়িয়েছে তারা।
পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে ডাকাতদের কাজ বললেও ঘটনার সঙ্গে চাঁদাবাজি কিংবা প্রতিশোধ স্পৃহা জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে।
কারণ কয়েক মাস আগে স্কুলের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব নিয়েই মেরি পল নিরাপত্তার বিষয়ে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেন। স্কুলে বসানো হয় সিসিটিভি। সরিয়ে দেয়া হয় স্কুলের নিরাপত্তা কর্মী স্বপনকে। এরপর বেশ কয়েকবার স্কুলে এসেছিল স্বপন। শুক্রবার রাতের ঘটনায় তার কোনও ভূমিকা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এছাড়া কয়েকদিন আগে স্কুলে মেরামতির কাজ হয়। সিসিটিভিতে ধরা পড়া চারজনের মধ্যে কেউ নির্মাণকর্মী কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া দশদিন আগে চাঁদা চেয়ে হুমকি ফোন এসেছিল স্কুলে। যারা ফোন করেছিল তাদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। দুষ্কৃতিকারীরা সবাই রানাঘাটের একটি কুখ্যাত দলের সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ জানায়। এর সঙ্গে গতকালের ঘটনার কোনও যোগাযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। 
রাজ্য সরকার গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিতে পারলে এক লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনীর সুস্থতা কামনা করে সারা ভারতজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যের গির্জায় চলছে প্রার্থনা। কলকাতার আর্চবিশপ টমাস ডিসুজা বলেন, রোববারের প্রার্থনা সভায় আমরা তার সুস্থতা কামনা করেছি। সন্ধ্যায়ও তার জন্য আবার প্রার্থনা করা হবে।’ সূত্র: বাসস