প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফের অভিশংসনের দাবিতে রবিবার ব্রাজিলে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসের দুর্নীতির কেলেঙ্কারির সঙ্গে রৌসেফের জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে এই বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়। তবে দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রৌসেফ।
ব্রাজিলের ২২টি প্রদেশ এবং কেন্দ্রীয় রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে দশ লাখেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে ব্রাজিলের বাণিজ্যিক রাজধানী ও বৃহত্তম শহর সাও পাওলোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বহুতল ভবন এভেনিদা পলিস্তার আশপাশে প্রায় দুই লাখ লোকের জমায়েত হওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য পুলিশ। এর আগে রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতের পাশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়ো হয় ১০ হাজারের বেশি লোক।
বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার সঙ্গে মিল রেখে নীল, সবুজ ও হলুদ জামা পরে আসে। জাতীয় সংগীত গেয়ে তারা ‘দিলমা চলে যাও’ বলে স্লোগান দেয়। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতি ও ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির বিরুদ্ধেও স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, 'কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় বাগাড়ম্বরের কোন মানে হয়না। সে কারণেরই আমি এখানে এসেছি। এটি কোন দল বা শ্রেণীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ নয়, এটি ব্রাজিলে সব ধরণের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ'। এদিকে, বিক্ষোভের পর দেশটির সরকার দুর্নীতি এবং শাস্তি থেকে অব্যাহতির বিরুদ্ধে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিচারমন্ত্রী জোসে এদুয়ার্দো কার্দোজো বলেন, বিক্ষোভকে সরকার 'গণতন্ত্রের অভিব্যক্তি' হিসেবে দেখে।
বেশ কিছুদিন ধরেই ব্রাজিলের বিরোধী দল অভিযোগ করে আসছে, পেট্রোব্রাসে ঘুষ এবং দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রেসিডেন্টের জ্ঞাতসারেই ঘটেছে। উল্লেখ্য, যে সময় ওই দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছিল, সেই সময় রৌসেফ পদাধিকার বলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ছিলেন। তবে এসব ঘটনায় নিজের কোনোরকম সম্পৃক্ততার বিষয় প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। এরই মধ্যে পেট্রোব্রাসের দুর্নীতি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এ মাসের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্টকে রৌসেফকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি
