সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে আসছে ঢাবি ক্যাম্পাস

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৫, ১৯:৫৮
 
 
ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) আওতায় আনা হচ্ছে। ব্লগার অভিজিত্ রায় হত্যাকাণ্ড এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার ফোনালাপের পর এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ উদ্যোগ কার্যকর হলে ঢাবি ক্যাম্পাসে কোনো অপরাধীরা অপরাধমূলক কাজকর্ম করতে সাহস পাবে না। করলেও অপরাধ দমন ও শনাক্ত করা সহজ হবে। যা উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে।
সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি চারদিক দিয়ে উন্মুক্ত হওয়ায় সারাক্ষণ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের আনাগোনা রয়েছে। এতে প্রতিনিয়তই চুরি-ছিনতাই-অপহরণসহ নানা অপরাধ সংগঠিত হয়। সর্বশেষ ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বইমেলা থেকে ফেরার পথে টিএসসিতে দুর্বৃত্তরা অভিজিত্ রায়কে ঠান্ডা মাথায় কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তিনি মারা যান। এতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে সব মহলে। প্রশ্নবিদ্ধ হয় ঢাবির নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অভিযোগ উঠে পুলিশের দায়িত্বশীলতা নিয়েও। এছাড়া ২০ দলীয় জোটের টানা হরতাল-অবরোধের সমর্থনে ২ মাস ধরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিয়ত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেই চলেছে। এতে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়তই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জানা যায়, এসব প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের টিএসসি, শহীদ মিনার, শাহবাগ, কলা ভবন, কার্জন হলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ভবন এবং আবাসিক হলগুলোকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) আওতায় নিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে এ মাসের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের অভ্যান্তরে ৫টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ভবনে এ ক্যামেরা বসানো হবে। সূত্র জানায়, এসব ক্যামরার দাম ব্যয়বহুল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিএমপি কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ক্যামেরা লাগানো হবে। এছাড়া, বিভিন্ন ভবন ও হল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হবে বলেও জানায়।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এএম আমজাদ বলেন, নাশকতা এড়াতে গোটা ক্যাম্পাসকে সিসি ক্যামরার আওতাভুক্ত করতে চিন্তা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে আর্থিক সমস্যটা প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তবে আমরা ডিএমপির সাথে কথা বলে তারা এ ক্ষেত্রে যতটুকু সহায়তা করে তার বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাকিটা বহন করবে।