ঠান্ডা মাথায় প্রসেনজিৎকে এক হাত.....

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৫, ২১:২৩
 
পশ্বিমবঙ্গের প্রখ্যাত অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি সম্প্রতি ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বাঘ অনেক রকম হয়। বেড়ালকে বাঘ ভেবে যেন ভুল করো না।’ এ থেকেই বিতর্কের শুরু। কারণ চলমান বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। তাই স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে উদ্দেশ্যে করেই তার এই স্ট্যাটাস। যদিও প্রসেনজিত্ তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘‘এটি ‘অমর প্রেম’ এর ডায়লগ।’’
তবে সাদামাটা এই ব্যাখ্যায় খুশি হতে পারেননি প্রসেজিতের নতুন সিনেমা ‘শঙ্খচিল’-এর কাহিনিকার সায়ন্তনি পুততুণ্ড। তার ঠান্ডা মাথার ক্ষুরধার লেখনির প্রতিটি শব্দই হয়তবা চরমভাবে আঘাত করেছে ভারতীয় অভিনেতাকে। সায়ন্তনি লিখেছেন, “মাননীয় অভিনেতা, খুব অল্প কথায় দু একটা জিনিস বলে দেই। আপনার পোস্টে সবকিছু লেখার স্বাধীনতা আপনার আছে। নিজের চরিত্রের ডায়লগ দেয়ার অধিকার তো বটেই। কিন্তু যখন ডায়লগ লিখবেন, তখন সেটাকে কোট-আনকোট নামক একটি বস্তুর মধ্যে ফেলে নির্দেশ করে দেয়া ভালো। নয়তো আপনি লালনের মূর্তি গড়তে গিয়ে সেটা যদি লাদেন করে ফেলেন, মানুষ তো চেঁচাবেই। তাই বলছি, দুমদাম কিছু নাই বা বললেন, আর বললেও নীচে ক্যাপশন থাকা জরুরি।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের প্লেয়াররা বাঘ না বিড়াল, সেটা পরের কথা। আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা ‘ওরা বাঙালি’। যেখানে আমরা এগারোজনের টিমে একজন বাঙালি খেললে গর্বিত হয়ে উঠি, সেখানে এগারোজন বাঙালি প্রাণপণ খেলে প্রমাণ করছে, ওরা খেলতে জানে। ভারতীয় নয়, শুধুমাত্র বাঙালি হওয়ার জন্যই আমরা গর্বিত হতে পারি। ওরাও সৌরভ গাঙ্গুলির জন্য গলা ফাটাত, এখনও ফাটায়। কেন? কারণ তিনি বাঙালি কোন‌ দেশের দেখার দরকার নেই, কারণ শেষমেষ তিনি বাঙালিই।”
এখানেই শেষ নয় লেখিকা নায়ককে খুব ভালোভাবেই মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘‘ভারতীয় বোর্ড কর্তারা ভাবতেই পারেন না, অলস, ভেতো-মেছো বাঙালিরা আদৌ খেলতে জানে। স্বয়ং সৌরভ গাঙ্গুলিও শুধুমাত্র বাঙালি হওয়ার অপরাধে অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন। বাংলাদেশ কিন্তু হাতে কলমে প্রমাণ করে দিচ্ছে হ্যাঁ। মাছ ভাত ডাল খাওয়া নিরীহ বাঙালিরাও কিন্তু মাঠে নামলে ধ্বংসাত্মক হতে পারে। আপনার তো গর্ব হওয়া উচিত! আপনিই তিনি না, যিনি লালনের ভূমিকায় আপামর বাঙালিকে হাসিয়েছিলেন, কাঁদিয়েছিলেন।’’