আমাদের দেশে ক্রিকেট শুধু একটা খেলার নাম নয়। তার চেয়ে বেশি আবেগের নাম। খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে দেশের টপ সেলিব্রেটি ব্যক্তিও ক্রিকেট বলতে পাগল। বাংলাদেশ জিতে গেলে আমরা আনন্দে পাশের দর্শককে জড়িয়ে ধরি, কণ্ঠ মিলিয়ে চিত্কার করি— বাংলাদেশ! বাংলাদেশ!
মাঠে খেলে মাত্র এগারো জন। অথচ ওই এগারো জনের সঙ্গে মিলেমিশে থাকে ১৬ কোটি মানুষ। সবাই নিশ্বাস আটকে খেলোয়াড়দের মতোই খেলায় মনোনিবেশ করে। টাইগাররা জিতলে আনন্দে চিত্কার করে ১৬ কোটি মানুষ, টাইগাররা হারলে মন খারাপ হয় ১৬ কোটি মানুষের। আমাদের এত এত আবেগকে বৃথা যেতে দেয়নি টাইগাররা। আর তাই তো এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ, ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ পড়েও ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ। যে নিউজিল্যান্ড এখন পর্যন্ত আসরে সবচেয়ে বিক্রমশালী দল, যাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার মতো দল ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেই নিউজিল্যান্ডকেও প্রায় হারিয়ে দিয়েছিল আমাদের টাইগাররা। অভিনন্দন বাংলার বাঘদের।
এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানি ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা প্রায়ই বিভিন্ন কথার ছলে বাংলাদেশকে অনেক সাধারণ দল প্রমাণের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এরা ছাড়া জিওফ বয়কটদের মতো নাক উঁচু, নিচু মন-মানসিকতার লোকেরা তো বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে সর্বদা প্রস্তুত। ভারতীয় ব্যাটসম্যান বীরেন্দর শেওয়াগ এর আগে খেলতে এসে বাংলাদেশকে অর্ডিনারি দল বলেছিল। এই সপ্তাহের শুরুতেই কলকাতার নায়ক প্রসেনজিত্ তাঁর ফেসবুক পেজে প্রথমে বাংলার বাঘদের ‘বিড়াল’ বলে কটাক্ষ করলেও শেষ পর্যন্ত নিজের ভুল বুঝতে পেরে তাঁর স্ট্যাটাস ডিলিট করতে বাধ্য হয়েছেন। এরকম আরো অনেক নজির আছে, যারা বাংলাদেশের উন্নতি সহ্য করতে পারেন না। এইসব বিকৃত মন- মানসিকতার লোকদের পাত্তা না দিয়ে বাংলাদেশি টাইগাররা নিজেদের যোগ্যতা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে। প্রমাণ করেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারত। প্রিয় টাইগাররা, আমরা বিশ্বাস করি ভারতকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার যোগ্যতা আমাদের আছে। ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলো, ম্যাচ যদি নাও জিততে পারো তাহলেও সমস্যা নেই। তোমরা ইতিমধ্যে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হূদয় জয় করে ফেলেছো। আর জেনে রাখো, তোমাদের জন্য ষোল কোটি শুভকামনা জমা আছে, নিরন্তর।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়
