তিউনিশিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ পর্যটকসহ ১৯ জন নিহত

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৫, ০৯:০৮


তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিশের একটি জাদুঘরে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ পর্যটকসহ ১৯ জন নিহত হয়েছে। বাকি দুইজন তিউনিশিয়ার নাগরিক। নিহত পর্যটকরা সবাই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিক। নিরপত্তা বাহিনীর অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। এসময় একজন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছে। জিম্মি থাকা পর্যটকদের মুক্ত করা হয়েছে। দেশটিতে আরব বসন্তের পর এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের হামলার ঘটনা। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
তিউনিশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হাবিব এজিদ জানিয়েছেন, পর্যটকরা স্পেন, জার্মানি, ইতালি এবং পোল্যান্ডের নাগরিক। দেশটির প্রাণকেন্দ্রে পার্লামেন্ট বিল্ডিংয়ের কাছের বারডো জাদুঘরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর থেকে ওই এলাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে ফেলে। হামলার সময় পার্লামেন্টের সদস্যরা সন্ত্রাসবিরোধী আইন বিষয়ক আলোচনা করছিলেন। ঘটনার পর থেকে পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুলিশ প্রধান ফেডারিকা মোগারিনি বলেন, এর পেছনে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ দায়ী। ইইউ এর জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করতে বদ্ধপরিকর। জাদুঘরের একজন কর্মী জানান, অন্তত দুইজন বন্দুকধারী জাদুঘরের সামনে বাস থেকে নামা পর্যটকদের ওপর গুলি শুরু করে। আক্রান্ত পর্যটকরা এ সময় প্রাণ বাঁচাতে জাদুঘরের ভেতর ঢুকে পড়েন। স্থানীয় টেলিভিশনের ভিডিওতে কয়েকজনকে নিরাপত্তারক্ষীদের পাহারায় সরিয়ে নিতেও দেখা যায়। ২০০২ সালে তিউনিশিয়ার জেরবা রিসোর্টে আল-কায়েদার বোমা হামলায় জার্মানির ১১ নাগরিকসহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়। প্রচুর সংখ্যক পুরাকীর্তি সংগ্রহের জন্য তিউনিশের ওই জাদুঘরটির পর্যটক আকর্ষণে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ লিবিয়ায় অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় তিউনিশের রাজধানীসহ গোটা দেশে। দেশটির বিপুল সংখ্যক নাগরিক সিরিয়া এবং ইরাক যুদ্ধে অংশ নেয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী আশঙ্কা করছে, যুদ্ধ ফেরত জঙ্গিরা দেশে ফিরে যে কোন সময় বড় ধরনের নাশকতায় জড়িয়ে পড়তে পারে।