আম্পায়ারিংয়ে ক্ষুব্ধ ক্রিকেট বিশ্ব

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৫, ২০:২৫
 
ঝড়টা কমেন্ট্রি বক্স থেকেই শুরু হয়েছিল। যেই মুহূর্তে রুবেল হোসেনের বলটাকে আম্পায়ার ইয়ান গৌল্ড ‘নো’ বলে ডাকলেন, সঙ্গে সঙ্গে বিস্ময় মেশানো চিত্কার শোনা গেল ধারাভাষ্য থেকে—কিভাবে সম্ভব!
 
এই বিস্ময়ের ঘোর এখনও কাটছে না ক্রিকেট বিশ্বের। এমন ভুল নয়, জেনে শুনে উল্টো কাজ একজন আম্পায়ারের পক্ষে কিভাবে করা সম্ভব, কেউ বুঝতে পারছেন না।
ভারতেরই সাবেক কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ভিভিএস লক্ষ্মণ বিস্ময় ভরা টুইট করে বলেছেন,
 
‘গৌল্ডের সিদ্ধান্তটা একদমই বাজে। বলটা নিশ্চিতভাবেই কোমরের ওপরে ছিল না। রোহিত সৌভাগ্যক্রমে আরেকটা জীবন পেল। এটাই হয়তো আরও ২০টা রান বেশি তুলে দেবে ভারতকে।’
 
প্রথমত রুবেল হোসেনের যে বলটা নিয়ে এতো আলোচনা, সেই বলটা কিছুতেই কোমর উচ্চতায় ছিলো না। ক্যাচ তুলে দেওয়া ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা প্রায় দু পা এগিয়ে আশার পরও বল ছিল তার কোমরের নিচেয়ই। ফলে নিয়ম অনুযায়ীই নব্বই রানে থাকা রোহিত শর্মা সে সময় আউট হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ইয়ান গৌল্ড ‘নো’ ডাকায় তা হয়নি।
 
এটাকে ‘মানবিক ভুল’ বলে ধরে নেওয়া যেত। কিন্তু সেটা ক্রিকেট বিশ্ব করতে পারছে না গৌল্ড একেবারে নিয়মের লংঘন করে নো বল ঘোষনার দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়ে নেওয়ায়। কোমর উচ্চতা বিষয়ক নো বল ঘোষনার দায়িত্ব থাকে মূলত স্কয়ার লেগ আম্পায়ারের ওপর। তিনি আগে এই সিদ্ধান্ত দেন। তারপর যদি খুব আটোসাটো সিদ্ধান্ত হয়, একবার থার্ড আম্পায়ারের দৃষ্টিভঙ্গি জেনে তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন স্ট্রাইক প্রান্তের আম্পায়ার। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এই রীতির একটুও অনুসরণ করা হয়নি। ইয়ান গৌল্ড বল বাতাসে থাকা অবস্থায়ই তড়িঘড়ি নো বল ঘোষণা করেন।
 
ঘটনা শুধু এখানেই শেষ হলে কথা ছিলো না। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় আবার পুনরাবৃত্তি ঘটে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এবং বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যখন সবে রানের চাকা ঘোরাতে শুরু করেছেন, তখন তিনি এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হলেন।
 
রিয়াদ বল উড়িয়ে মেরেছিলেন। বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ধরেছিলেন শিখর ধাওয়ান। কিন্তু রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গেল ধাওয়ানের হাতে যখন বল, তখনই তার পা স্পর্শ করে ফেলেছে বাউন্ডারি!
 
এমন দুই সিদ্ধান্তের পর অনলাইন ও ক্রিকেট দুনিয়া জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সর্বকালের অন্যতম সেরা স্পিনার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার শেন ওয়ার্ন নিজেই ধারাভাষ্যে বলেছেন, ‘এটা কোনোভাবেই নো বল ছিল না। কোমরের নিচে ছিল বল। এটা ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত। ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে দিলো।’
 
শেন ওয়ার্নের সঙ্গেই ধারাভাষ্যে থাকা সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও বিশিষ্ট ক্রীড়া লেখক নাসের হোসেন হতভম্ব হয়ে গেছেন এমন দুটো সিদ্ধান্ত দেখে। তিনি বলছিলেন, ‘অবিশ্বাস্য। এক ম্যাচে এরকম দুটো সিদ্ধান্ত একটা দলকে ছিটকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’
এমনকি ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা অর্জুন রামপলও এই দুটি সিদ্ধান্তের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘৩০২ রান অনেক ভালো স্কোর। তারপরও বাংলাদেশকে ছোট ভাবার কোনো কারণ নেই। আম্পায়ারদের দুটো সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে।’
 
পুরো সময়টা জুড়ে ভারতের সমর্থন করে যাওয়া দলটির সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত দুটির সমালোচনা না করে পারেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘খেলার ওই রকম পর্যায়ে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত একটি দলের মানসিকতা ভেঙে দেয়।’