মেলবোর্নে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছিলেন বাংলাদেশ দলকে একটা সংবর্ধনা দিতে। কিন্তু কিছুতেই সময় মিলছিল না। প্রথম পর্বে এখানে যখন খেলতে এসেছিল বাংলাদেশ দল, তখন আঁটসাট সূচির জন্য সময় দিতে পারেনি। পরে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে এলেও সময় বের করা যায়নি।
অবশেষে ঠিক হয়েছিল, কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ক্রিকেটাররা।
কথা রাখতে গতকাল সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কিন্তু তাদের মুখ দেখে অনুষ্ঠানে এসেছেন, কে বলবে! বরং মনে হচ্ছিল, কোনো শোকের বাড়িতে গেছেন বুঝি মাশরাফি-সাকিবরা। হ্যাঁ, এখনও কোয়ার্টার ফাইনালে হারের শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে যে দুই বিতর্কিত সিদ্ধান্তে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে, সেই ধাক্কা কিছুতেই কাটিয়ে ওঠার নয়।
এর মধ্যে অবশ্য ক্রিকেটারদের সান্ত্বনা হয়ে মেলবোর্নে বিসিবি সভাপতির কাছে গেল বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোন। জানা গেল যে, সেই ফোনে ক্রিকেটারদের সান্ত্বনা ও বাহবা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে দেশের অভিভাবক বলেছেন, এই পরাজয়ে ভেঙে পড়ার কিছু নেই; কারণ এটা তাদের ব্যর্থতা নয়। বরং যে সাফল্য তারা পেয়েছেন, সেটা মনে করিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় কিছুর জন্য তৈরি হতে দলকে অনুপ্রাণিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই শুভাশিষ ও সান্ত্বনা নিশ্চয়ই ক্রিকেটারদের আবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহস জোগাবে।
অবশ্য শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, দেশের ক্রিকেট বোর্ড, আইসিসির সভাপতি থেকে শুরু করে বর্তমান-সাবেক সব ক্রিকেটারকে এ সময়ে পাশে পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। কমবেশি সবাই একবাক্যে যে অন্যায় কোয়ার্টার ফাইনালে হয়েছে, তার নিন্দা করছেন এবং ক্রিকেটারদের এই বার্তা দেয়ার চেষ্টা করছেন যে, বাংলাদেশ দল সঠিক পথেই আছে।
এই বার্তা আগের দিনই ম্যাচশেষে দিয়েছিলেন আইসিসির বর্তমান সভাপতি ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। তিনি সরাসরি সমালোচনা করেছিলেন এই কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল আবার আইসিসি থেকে একটা বিবৃতিও দেয়া হয়েছে।
এদিকে গতকালও কোয়ার্টার ফাইনালের আম্পায়ারিং নিয়ে আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, এমপি। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, নিয়ম মোতাবেকই আইসিসির কাছে অভিযোগ করবে বিসিবি, ‘ম্যাচের দিনে যে সব ঘটনা ঘটেছে তা সবাই দেখেছেন এবং সকলেই জানেন। এখানে বেশি কিছু বলার নেই। আমরা যে কাজটা করেছি, কোচ এবং অধিনায়ককে বলা হয়েছে। আমরা টিম রিপোর্টে অফিসিয়ালি আমাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমার সাথে কালকে আইসিসির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনিও এটার ব্যাপারে ক্ষুব্ধ। ওখানটায় আমরা দুজন মিলে কথা বলেছি। আইসিসির অন্যান্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। আইসিসির পরবর্তী বোর্ড মিটিংয়ে আমরা অবশ্যই এই বিষয়গুলো তুলে নিয়ে আসব।’
এই পরিস্থিতিতেই আজ মেলবোর্ন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে বাংলাদেশ দল। আগামীকাল দেশে এসে পৌঁছবেন মাশরাফিরা। তখন নিশ্চয়ই এই ধাক্কা আর দলের সঙ্গী হবে না। বরং সঙ্গী হবে বিশ্বকাপজুড়ে অসাধারণ ক্রিকেট খেলার গর্ব। যে গর্বের কথাই বলছিলেন সভাপতি, ‘আমাদের অনেক জায়গায় অনেক উন্নতি হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সব স্তর থেকে আমরা প্রচুর প্রশংসা পেয়েছি; ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে হারার পরও। তারা বলেছে এই বাংলাদেশকে কেউ কখনও চিন্তাই করতে পারেনি। বাংলাদেশ এই লেভেলের ক্রিকেট খেলবে, এটা তো কল্পনাতে ছিল না। যেভাবে আমরা বিশ্বকাপে খেলেছি। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে যে কোনো দলকে আমরা হারাতে পারি।’