চলমান সহিংসতার মধ্যে ঘোষিত তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নির্দলীয় করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। প্রয়োজনে নির্বাচনের আগেই সেনা মোতায়েনেরও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুজনের পক্ষ থেকে এ পরামর্শ দেয়া হয়। ‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সিটি করপোরেশন নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের আহ্বানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
দেরিতে হলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং মেয়াদ পূর্তির আগেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সারা দেশে সহিংস ও অস্থিতিশীল এক পরিস্থিতির মধ্যে তড়িঘড়ি করে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী মামলার কারণে পলাতক বা কারারুদ্ধ রয়েছেন। তাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সুজন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়ে অনেকের মনে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা রয়েছে। ১ মার্চ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী জুন/জুলাইয়ের মধ্যে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানানো হয়। অথচ হঠাত্ করেই ২৮ এপ্রিল নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করা হলো।
বদিউল আলম বলেন, বর্তমানে সারাদেশে পেট্রোল বোমা হামলা ও বিচার বহির্ভূতহত্যাসহ নানা ধরণের সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী মামলার কারণে কারারুদ্ধ বা পলাতক রয়েছেন। তাই অনেকেই মনে করে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করলে চলমান অস্থিরতা অনেকটা প্রশমিত হতো। অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করত। কিন্তু কমিশন সেটা না করে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় জনমনে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।
