চট্টগ্রামে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী কে হবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মেয়র প্রার্থী হিসাবে বর্তমান মেয়র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ মনজুর আলম, আবদুল্লাহ-আল নোমান এবং নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা সরাসরি কিছু না বললেও মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। তবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে লড়তে একাধিক প্রার্থী তত্পরতা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিএনপির একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জানিয়েছেন, তারা নির্বাচনের জন্য কাজ করছেন। দলের সিদ্ধান্ত আসলে তারা প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়বেন।
মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করছে বলে জানা গেছে। এদিকে, আত্মগোপনে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনও কাউকে নিরুত্সাহিত করা হয়নি। তবে নির্বাচনকালীন সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কেমন হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারা জানান, নগরীর প্রতিটি এলাকার নেতৃস্থানীয় প্রায় সকলের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এর ফলে অধিকাংশই এলাকা ছাড়া। এ অবস্থায় নির্বাচন চলাকালে নেতাকর্মীদের হয়রানি অব্যাহত রাখলে সুষ্ঠু নির্বাচন কোনভাবেই সম্পন্ন হবে না।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মহিলা কমিশনার ও মহিলা দলনেত্রী মনোয়ারা বেগম মনি জানান, তিনি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার দলের সিদ্ধান্তের দিকেও তাকিয়ে আছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সরকারের ভূমিকা কেমন হবে সেটিই দেখার বিষয়। লোকজন ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারলেই যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবে।
সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম নির্বাচনে আগ্রহী বলে জানা গেছে। তিনি ইত্তেফাককে জানান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। তার সিদ্ধান্তের ওপর সবকিছু নির্ভর করবে। দলের সিদ্ধান্তের পর চট্টগ্রামে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নির্বাচনের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
মেয়র প্রার্থী আবদুল্লাহ-আল নোমান ও ডা. শাহাদাত হোসেন আত্মগোপনে রয়েছে বলে তাদের প্রকাশ্য কোন তত্পরতা নেই। তবে তাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের দিয়ে এই বার্তা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, তারা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক। বাকিটা নির্ভর করছে কেন্দ্রর উপর।
বিগত নির্বাচনে বিএনপি সমর্থক অন্তত ২২ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ১ জন কাউন্সিলর বিস্ফোরক মামলায় আটক হয়ে জেলে রয়েছে। আরো একাধিক নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় পলাতক রয়েছেন।