ইতিপূর্বে ঘোষিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিকল্পনা অনুসারে আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পরিচয় (এনআইডি)-এর স্মার্টকার্ড উদ্বোধন হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হঠাত্ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একাজের গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়ায় এবং আরো কিছু সমস্যার কারণে আগামী মাসের বিশেষ কোনোদিনে এই কার্ড উদ্বোধন করা হতে পারে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দিনটি নির্দিষ্ট করে এখনই বলা যাচ্ছে না। সেই দিনটি বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন কি-না তাও স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। নির্বাচন কমিশন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এ কার্ড উদ্বোধন করা হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের নয় কোটিরও বেশি নাগরিককে দেয়া হবে। এজন্য কমিশনের হাতে প্রকল্পের মেয়াদ অনুসারে ১৮ মাস সময় রয়েছে। ঐদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ ইসি সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনলাইনে এনআইডি সেবার উদ্বোধন করেন।
এই সেবা শুরুর ২৪ দিন পর গতকাল জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৪১ হাজার নাগরিক অনলাইনে এ সেবা পাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। আবেদন করা হয়েছে প্রায় ১২ হাজারটি। এর মধ্যে তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে আট হাজারের কাছাকাছি। ভোটার হতে আবেদন করেছেন তিন হাজার ২০০ জন। ঠিকানা পরিবর্তন বা স্থানান্তরের আবেদন করেছেন প্রায় এক হাজার ২০০ জন।
স্মার্টকার্ডের মেমোরি চিপের মধ্যে ভোটারের সব তথ্যই থাকবে। এক্ষেত্রে তথ্যগত ভুল-ভ্রান্তি যত সম্ভব এড়ানো ভালো। স্মার্টকার্ডের মেমোরি চিপের মধ্যে ভোটারের সব তথ্যই থাকবে। তথ্য সংশোধনের জন্য অনলাইনে এ পদ্ধতির পরও প্রচলিত পদ্ধতিও চালু থাকবে। স্মার্টকার্ড ছাপানোর আগে তথ্য সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা রয়েছে কিনা- এ প্রশ্নে সচিব জানান, ওই সময়সীমা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন গত বছর জুনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৪’ প্রযুক্তি সম্মেলনে অনলাইন আবেদনের এ পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীর আয়োজন করে। তখনই জানানো হয়, এ সুযোগ পুরোপুরি চালু হবে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) তৈরির আগেই। সে সময়ই জানানো হয়, অনলাইনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ট্যাক্স পেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) রেজিস্ট্রেশন করার মত পদ্ধতিই এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।
