দুর্ঘটনার চিকিত্সা পেতে মোবাইল অ্যাপ

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৫, ১১:১৭
 
জেনিফার ফ্যারেল বাংলাদেশে প্রথম কাজ করতে আসেন ২০১২ সালে। সেসময় তিনি নিজেই বাংলাদেশের একটি মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার হন। অনেকেই মোবাইল ফোনে তাদের ছবি তুলছে এবং ফেসবুকে তা পোস্ট করছে। এই ভাবনা থেকেই ফ্যারেল মোবাইল অ্যাপটি তৈরির কাজে নামেন। জানাচ্ছেন মোবাশ্বেরা জাহান ফাতিমা
মানুষ যাতে দুর্ঘটনা বা অন্য বিপদের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে দ্রুত এবং সহজে জরুরি চিকিত্সা সেবা পেতে পারেন সেজন্য একটি অ্যাপ তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক চিকিত্সক। ‘ক্রিটিকালিংক’ নামের এই অ্যাপটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার অনেক দেশের তুলনায় বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ লোক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়, তার ৮০ গুণ মারা যায় বাংলাদেশে। আর সড়ক দুর্ঘটনায় যারা গুরুতর আহত হন তাদের ৮২ শতাংশই মারা যান ঘটনাস্থলের বা তার কাছাকাছি উপযুক্ত চিকিত্সা সেবা না পাওয়ার কারণে।
এছাড়া দেশে এমন কোনো সার্বজনীন জরুরি ফোন নম্বর নেই যাতে ফোন করে জরুরি চিকিত্সা সহায়তা পাওয়া যায় বা অ্যাম্বুলেন্স ডাকা যায়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বাংলাদেশে যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে তার মাত্র ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা পান দুর্ঘটনার শিকাররা। ফ্যারেল বাংলাদেশে প্রথম কাজ করতে আসেন ২০১২ সালে। সে সময় তিনি নিজেই বাংলাদেশের একটি মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার হন।
তিনি বলেন, আমরা দেখলাম অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি তুলছে এবং ফেসবুকে তা পোস্ট করছে। মনে হলো, মোবাইল ফোনের ব্যবহার যদি এত ব্যাপক হয় তাহলে তো মানুষ দুর্ঘটনার খবর দেয়া এবং অন্যকে চিকিত্সা সহায়তা দেয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারে। এই ভাবনা থেকেই মোবাইল অ্যাপটি তৈরির কাজে নামি।
অ্যাপ ব্যবহারের পদ্ধতিটিও বেশ সহজ। এই অ্যাপ ব্যবহার করে একটি কলসেন্টারে ফোন করা বা এসএমএস করে দুর্ঘটনার খবর বা ছবি দেয়া যাবে। সেই কলসেন্টার থেকে একজন অপারেটর দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যে স্বাস্থ্যকর্মী বা জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা আছেন তাদের জানাবেন। সেই কর্মীরা অতি দ্রুত জেনে যাবেন যে দুর্ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে এবং হয়তো দুর্ঘটনাস্থলের ছবিও পেয়ে যাবেন।
জেনিফার ফ্যারেল শুধু যে অ্যাপটি তৈরি করছেন তা নয়, এই সেবা প্রদানকারীদের দলও গড়ে তুলছেন। তিনি এ পর্যন্ত তিন হাজার নারী ও পুরুষকে ট্রেনিং দিয়েছেন যাদের বয়স গড়ে ২১ বা ২২ বছর। এদের মধ্যে ৫০০ জন হচ্ছেন অবৈতনিক স্বেচ্ছাসেবী। ফ্যারেল আশা করছেন, ২০১৫ সালের শেষের দিকে এই সেবা বাংলাদেশের সব প্রান্তে পৌঁছে দেয়া যাবে।