পোষা বেড়াল নয়, সিংহ!

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৫, ১১:৫৯
 
জর্জ ও জয় অ্যাডামসন দম্পতির বর্ন ফ্রি, লিভ ইন ফ্রি, ফরএভার ফ্রি’র কথা অনেকেই হয়তো ভোলেননি। তবে এবার আফ্রিকা নয়, ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে ঘটছে হুবহু লিভ ইন ফ্রি’র পুনরাবৃত্তি। ইজরাইলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি গাজা ভূখণ্ডের শরণার্থী শিবিরে একটি পরিবারে বেড়ে উঠছে দু’টি সিংহশাবক। অল্প সময়েই তারা ওই পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে বিপুল ভালোবাসার পাত্র হয়ে উঠেছে। বাড়ির পোষা বেড়ালকে নিয়ে যেভাবে শিশুরা খেলা করে বেড়ায় এই সিংহদুটিকে নিয়ে ঠিক সেভাবে খেলা করছে তারা। একটুও ভয়ডর নেই! ফিলিস্তিনি কর্তৃৃপক্ষের নিরাপত্তাকর্মী সাদ-আল-জামালের পরিবারে সিংহশাবক দু’টি বেড়ে উঠছে। গাজার দক্ষিণে রাফায় অবস্থিত চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ অর্থসংকটের কারণে সাদ-ই-জামালের কাছে দু’মাসের সিংহশাবক দু’টি বিক্রি করে দিয়েছিল। পরে শাবক দু’টিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন সাদ-আল-জামাল। সিংহশাবক দু’টিকে পেয়ে সাদ-আল-জামালের চার নাতি-নাতনি ও প্রতিবেশী শিশুরা দারুণ খুশি।
জামাল জানিয়েছেন, গত ১০ সপ্তাহ ধরে সিংহশাবক দু’টি তার পরিবারে অন্য সদস্যদের মতোই রয়েছে। তিন কক্ষের বাড়িটিতে দিনভর শিশুরা সিংহশাবক দু’টির সঙ্গে খেলা করেই সময় কাটিয়ে দেয়। তাতে অন্তত এই শিশুরা গৃহযুদ্ধের আবহাওয়ার মধ্যে থেকেও সেই পরিস্থিতিকে ভুলে থাকতে পারে। দু’টি সিংহশাবকের মধ্যে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। তাদের নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক্স ও মোনা। তবে বর্তমানে সিংহশাবক দু’টির ভরণপোষণের খরচ বহন করতে যৌথ পরিবারটিকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ, দিনে তাদের দুই কেজি করে মাংস খেতে দিতে হয়। গত জুলাই-আগস্টে ইজরাইলি বিমান হানার পর গাজায় মাংসের দাম অত্যন্ত বেড়ে গেছে।
সিংহশাবক দু’টির বয়স পাঁচ মাস হলে মিসরের লোহিত সাগর কিংবা লেবাননের ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী কোনো পর্যটনকেন্দ্র বা রেস্তোরাঁয় তাদের লিজ অথবা ভাড়া দিয়ে কিছু অর্থ আয় করার পরিকল্পনা করছেন জামাল। সিংহশাবক দুটি বিক্রি করে দেয়ার জন্য ইতিমধ্যে ভালো প্রস্তাবও পেয়েছেন তিনি। অনেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত দাম দিতে চেয়েছে। তবে এ কথা শুনে জামালের নাতি-নাতনি ও পড়শিরা বেজায় কষ্টে আছে। তারা আর তাদের খেলার দুই সঙ্গীকে হারাতে চাইছে না। কারণ ইতিমধ্যেই তারা তাদের পরিবারের বহু সদস্যকে হারিয়েছে। তাই তাদের এই বন্ধুদের হারাতে হবে ভেবেই মনোকষ্টে ভুগছে বাচ্চারা।