ক্রিকেট ফ্রিক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি গ্রুপ। ২০১৩ সালের ১২ মে যাত্রা শুরু। ক্রিকেট পাগল একদল তারুণ্যের এক হওয়ার জায়গা। ভাবনা বিনিময়ের প্লাটফর্ম। জানাচ্ছেন বারেক কায়সার
ক্রিকেট ফ্রিক গ্রুপের উদ্দেশ্য ক্রিকেট উন্মাদনাকে সবার মাঝে আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া। প্রায় সাড়ে ২২ হাজার সদস্যের এই গ্রুপটি পরিচালনার জন্য আছেন ১২ জন এডমিন। গ্রুপ ক্রিয়েটর মেঘ রৌদ্দুর। এছাড়া এডমিন হিসেবে আছেন রাইসুল ইসলাম সোহান, সাকিন উল আলম ইভান, ওমর ফারুক নাঈম, রায়হান নওশাদ, দীপায়ন অর্নব, আহমেদ জামিল, সৃজন দেবনাথ, আহমেদ অলি, তাজকিয়া ইসাবা, মালিহা তাবাসসুম এবং আহমেদ স্বজন।
কথা প্রসঙ্গে সবাই বলল, সবার আগে দেশ ও মুক্তিযুদ্ধকেই স্থান দেয় ওরা। নিজেদের দেশে ক্রিকেট থাকা সত্ত্বেও একদল মানুষ বাংলাদেশ রেখে ভারত, পাকিস্তান কিংবা অন্য টিমের সমর্থক হয়ে থাকেন। যাদের কাছে দেশের ক্রিকেটের চেয়ে বাইরের ক্রিকেট বেশি পছন্দ তাদের কাছে এরা এই বার্তা পৌঁছাতে চায়, সবার আগে দেশ, আমাদের টাইগাররা।
ক্রিকেটারদের প্রশংসার পাশাপাশি গঠনমূলক সমালোচনাও গ্রুপে হয়ে থাকে। সাধারণত বিভিন্ন টিম, প্লেয়ার এবং পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্লেষণধর্মী লেখাও থাকে। আর প্রতিটি ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচের সময়ই থাকে ম্যাচ থ্রেড। যেখানে ম্যাচ চলাকালীন সময়ে সদস্যরা নিজেদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কে মাতেন।
ক্রিকেট ফ্রিকের একজন এডমিন মালিহা তাবাসসুম। বাড়ি বরিশাল। বাবা মায়ের ছোট মেয়ে। মানুষকে সাহায্য করতে পছন্দ করে মেয়েটা। বরিশাল থেকেই মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। পড়ছেন ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক-এ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। পড়াশুনার পাশাপাশি আগ্রহ আছে বিতর্কে এবং খেলাধুলায়। বরিশাল ডিবেটিং সোসাইটির একজন সদস্য। গল্পের বই পড়ার প্রচুর নেশা। দেশি-বিদেশি অনেক লেখকের বই পড়ে মেয়েটা। বেশি আগ্রহ খেলাধুলা নিয়ে। বিশেষত ক্রিকেট। খেলাধুলার নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখা দিনের প্রিয় কাজ। ফেসবুকে ক্রিকেট ফ্রিকের সাথে যুক্ত হয়ে ক্রিকেট নিয়ে মানুষের মাঝে উদ্দীপনা ছড়াতে ভালো লাগে তার।
ভবিষ্যতে ক্রিকেট নিয়ে অফলাইনে কাজ করার ইচ্ছাও আছে। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলেও রয়েছে সমান আগ্রহ। দেশ-বিদেশের ফুটবলের খবর ও রাখা হয় নিয়মিত। দেশকে প্রচণ্ড ভালোবাসে মালিহা।
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রচণ্ড গর্বিত আমি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি রয়েছে অন্তরে অসীম শ্রদ্ধা। জীবনে যাই করি না কেন উদ্দেশ্য থাকবে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করা। মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকি মায়ের কাছ থেকে। সাধারণভাবে জীবন যাপন করতে চাওয়া মেয়ে আমি।
তিনি আরো বলেন, ক্রিকেট ফ্রিকের সঙ্গে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। আমাদের ইচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে ভবিষ্যতে অনেক কাজ করার। কতটা পারবো জানি না, কিন্তু চেষ্টা করে যাব। ক্রিকেট ফ্রিক ভবিষ্যতে শুধু অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, অফলাইনেও ক্রিকেট উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে।
