খেলাধুলায় এগিয়ে চলছে নারীরা

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৫, ১৩:৪৭
 
দেশের পুরুষ খেলাধুলার পাশাপাশি নারী খেলাধুলাও এগিয়ে যাচ্ছে। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, দাবা, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভারোত্তোলন, তায়কোয়ানডো, কোথায় নেই নারী। জানাচ্ছেন সোহেল সারওয়ার চঞ্চল।
নতুন যে তীর ধনুকের খেলা আরচ্যারি শুরু হয়েছে সেটিতেও নারী যেন সমানভাবে এগিয়ে আসছে। নারীদের কাছে কোনো খেলা চাপিয়ে দিচ্ছে না তার পরিবার। একজন নারী যে খেলাটি পছন্দ করেন তার কাছে সেটিই হয়ে উঠছে আদরণীয়। কঠিন খেলা হলেও তার কাছে সেটি যেন সবচেয়ে সহজবোধ্য। চর্চা করতে গেলে কঠিন কিছু মনে হয় না। দাবায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শামীমা আক্তার লিজা নাম লেখালেন রাশিয়ার বিশ্ব মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে। দাবার আলোচনা শেষ না হতেই জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের স্ট্রাইকার সাবিনা মালদ্বীপে গিয়ে ক্লাব ফুটবলে হ্যাটট্রিক করলেন। চার গোলের সাথে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের ফুটবলে চমক দিলেন। ফুটবলে তার পারফরম্যান্স প্রভাব ফেলছে। চলমান প্রশিক্ষণে থাকা জুনিয়র ফুটবলাররা অনুপ্রাণিত হয়েছেন সাবিনার পারফরম্যান্সে। লিজা, সাবিনাদের এগিয়ে চলায় শুধু নারী ক্রীড়াবিদরাই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন না— অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন নারী সংগঠকরাও। এগিয়ে আসছেন আরো নারী সংগঠক। সংযুক্ত হচ্ছেন নারী সংগঠনে, নারী খেলাধুলায়।
নারী জাগরণের পথিকৃত্, মহাকবি ও উপমহাদেশের স্বাধীনতা এবং প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী শতাব্দীকাল আগে বলেছেন, ‘প্রত্যেক পাড়ায় মহল্লায় নারীদের জন্য ব্যায়ামাগার গড়ে তুলতে হবে। সমাজের অর্ধেক হইলো নারী। সেই নারীকে অন্তঃপুরে বন্দি রাখিয়া যাহারা সমাজকে প্রগতির পথে আগাইয়া নিবার কথা বলেন তাহারা প্রকৃতপক্ষে সমাজকে পিছনের দিকে ঠেলিয়া দিতেছেন। নারীদের জন্য সব ধরনের খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে হবে।’ 
নিজেকে আটপৌরে শাড়ির মধ্যে আটকে না রেখে দরজার বাইরে আলোকিত পৃথিবী দেখার সরল রেখাটা সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজীরাই তৈরি করে দিয়েছিলেন। বাঙালি নারীকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে ভিত তৈরি করতে পথ দেখিয়েছেন যারা, তাদের অনুসরণ করে কোটি কোটি বাঙালি নারী এখন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। আছেন খেলাধুলায়। শতাব্দী আগে সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী যে কথা বলেছিলেন আজ তার কথাই সঠিক। পাড়া মহল্লায় এখন নারীর শরীর রক্ষায় গড়ে উঠেছে জিম।