একবিংশ শতকে বিশ্বের যে ১১টি দেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে মনে করা হয় তার মধ্যে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম রয়েছে। এ দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। তবে বাংলাদেশ থেকে ভিয়েতনামে রফতানি ও আমদানির পরিমাণ খুব বেশি নয়। দু’দেশের প্রয়োজনে বাণিজ্য বাড়াতে ১০০ ভাগ শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্তভাবে সেদেশে বাংলাদেশি পণ্য রফতানির অনুমোদন দাবি করা হয়েছে। সোমবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এ দাবি করে।
এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ভিয়েতনামের ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভিয়েতনামের বানিজ্য ও শিল্প এন্ড ট্রেড মন্ত্রণালয়ে উপ-মন্ত্রী হোয়াং কোক বুয়ং। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত নউগুয়েন কোয়াং থাক, এফবিসিসিআই প্রথম সহ- সভাপতি মোনোয়ারা হাকিম আলিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বলা হয়, সাধারণত বাংলাদেশ থেকে ভিয়েতনামে হিমায়িত খাদ্য, কৃষি পণ্য ও কেমিক্যাল প্রোডাক্ট রফতানি হয়। এর বাইরে চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, প্লাস্টিক পণ্য, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল প্রভৃতি পণ্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। এর এ সুযোগ তৈরির জন্য ভিয়েতনামে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকায় প্রতিবছর যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা হয় সেখানে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীদের অংশ নেয়ার দাবিও জানানো হয়।
শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
এদিকে গতকাল শিল্প মন্ত্রণালয়ে শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভিয়েতনামের প্রতিনিধিদল। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু অধিকহারে বাংলাদেশি পণ্য আমদানির করতে ভিয়েতনামকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বমানের ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কাপড়, সিরামিক, টাইলস্ ও তৈরি পোশাক উত্পাদন করছে। ভিয়েতনামের উদ্যোক্তারা এসব পণ্য বাংলাদেশ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানি করতে পারেন। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
