ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ খরচ ২ টাকা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৫, ০৬:৩৯

ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটিতে নির্বাচনী ব্যয়সীমা অনুযায়ী মেয়র প্রার্থীরা ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ২ টাকা খরচ করতে পারবেন। আর কাউন্সিলর প্রার্থীরা খরচ করতে পারবেন ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ৬ টাকা। বিধিমালা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যার অনুপাতে নির্বাচনী ব্যয়ের এই হিসাব দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে তিন সিটিতে ঋণ খেলাপিদের তথ্য, শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা, নিয়োগ-বদলি বন্ধ, উন্নয়ন বরাদ্দ স্থগিত রাখা এবং পুলিশ ফোর্স চেয়ে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মন্ত্রণালয়কে পৃথক চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক, বিএনপির পিন্টু ও জাপার সাইফুদ্দিন মিলন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। এ পর্যন্ত উত্তর সিটিতে মেয়র পদে ১৩ জন এবং দক্ষিণে ৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দুই সিটিতে কাউন্সিলর পদে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা অনুপাতে ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থীরা ৫০ লাখ টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। উত্তরে ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৩ জন ভোটারের বিপরীতে ৫০ লাখ ব্যয়ের সীমা থাকায় ভোটার প্রতি দুই টাকা ১৩ পয়সা করে খরচের সুযোগ থাকছে। আর ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৩৬৩ জন ভোটারের বিপরীতে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থীদের ভোটার প্রতি ১ টাকা ৬০ পয়সা এবং ১৮ লাখ ২২ হাজার ৮৯২ জন ভোটারের চট্টগ্রামে ১ টাকা ৬৫ পয়সা করে ব্যয়ের সুযোগ আছে। এর বাইরে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ব্যক্তিগত খরচ করতে পারবেন। ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটির মেয়র প্রার্থীর ব্যক্তিগত খরচ দেড় লাখ টাকা। কাউন্সিলর পদে ১৫ হাজার ভোটারের জন্য এক লাখ টাকা ও ৫০ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে ৬ লাখ টাকা ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে। প্রচার, পোস্টার ছাপানোসহ অন্যান্য ব্যয় এ খরচের মধ্যেই পড়বে। আচরণবিধি মেনে প্রচারণার নির্ধারিত সময়ে এই ব্যয় করা যাবে।
পাঁচ মন্ত্রণালয়কে ইসির চিঠি
ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঋণ খেলাপিদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্র ও শনিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সব ব্যাংক খোলার রাখার জন্য অনুরূপ আরেকটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় নতুন কোন উন্নয়ন বরাদ্দ না দিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে (এলজিইডি), আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ সার্বিক বিষয় প্রস্তুত রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে, প্রশাসনে কোন ধরনের রদবদল না করতে ও নির্বাচন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় লোকবল চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীন যে সব প্রকল্প যেমন, টেস্ট রিলিপ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা), ওএমএস, ভিজিডি ও ভিজিএফ নতুন করে ছাড় ও ইস্যু করা যাবে না। তবে নির্বাচন পূর্ব সময়ের আগে নেয়া ত্রাণ প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যাবে। এছাড়া বদলি পদোন্নতি বন্ধ রাখতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করেছে ইসি।
ইসি সচিব জানিয়েছেন, তিন সিটিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ২ জন করে ৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ফোর্স দিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। আজ অথবা আগামীকাল থেকে আগাম আচরণবিধি লংঘন ঠেকাতে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাঠে থাকবেন এসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে নির্বাচন পর্যন্ত ৬ জন করে মোট ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী দায়িত্বে মাঠে থাকবেন।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন যারা
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে সোমবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বেশ কয়েকজন আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থী। ইসির তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সোমবার পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে ১৩ জন, দক্ষিণে মেয়র পদে ৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দুই সিটিতে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে পাঁচ শতাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। উত্তরে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০২ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দক্ষিণে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৩৪ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
উত্তর সিটিতে সোমবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি আওয়ামী সমর্থিত আনিসুল হক। ঢাকার সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহও এ সময় তার সঙ্গে  ছিলেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পর আনিসুল হক বলেন, ঢাকাবাসীকে সেবা দেয়ার জন্য স্বপ্নের মতো আমার হাতে একটি সুযোগ এসেছে। আমরা চাই একটি সুন্দর সুংগঠিত ঢাকা। নাগরিক সেবামূলক, সুশাসনের ঢাকা। মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বিএনএফ’র আতিকুর রহমান নাজিম ও কামরুল ইসলাম। এছাড়া গত দুই দিনে মানোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যুব ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল­াহ আল কাফি রতন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিশেষ উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের বড় ছেলে হাজ্জাজ বিন মুসা ববি (ববি হাজ্জাজ), জাপা সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে ইরাদ আহমেদ, স্বাধীনতা পার্টির মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, শামসুল আলম চৌধুরী, কাজী শহীদুল্লাহ, আনিসুজ্জামান খোকন, জামান ভুঁইয়া ও একমাত্র নারী মেয়র প্রার্থী হেলেনা জাহাঙ্গীর হেলেন মনোনয়পত্র কিনেছেন। 

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে জানা যায়, গতকাল সোমবার পর্যন্ত মেয়র পদে মনোনয়ন কিনেছেন ৯ জন। গতকাল আইনজীবীর মাধ্যমে পিলখানা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু মনোনয়ন নিয়েছেন। মনোনয়ন নেন জাতীয় পার্টির হাজী সাইফুদ্দিন মিলন, কাজী সাইদুর রহমান ও সৈয়দ শাহ আলম। এছাড়া গত দু’দিনে সংগ্রহ করেছেন মো. আখতারুজ্জামান, বাহরানে সুলতান বাহার, রিয়াজ উদ্দিন, শফিউল্লাহ ও শাহীন খান।