একাত্তর পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘স্বাধীনতা আমার অহংকার’ নামের সংগঠনটি কুষ্টিয়ায় ব্যতিক্রমধর্মী নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশে সংগঠনটি গত ৯ বছর ধরে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠার পর সংগঠনটি প্রথম ধাপে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করে। স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনানো হতো। এরপর মুক্তিযুদ্ধের উপর ১৫টি প্রশ্ন সম্বলিত প্রতিযোগিতামূলক কুইজ নেয়া শুরু করে সংগঠনটি। উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ী প্রতিযোগীদের পুুরস্কৃত করা হতো। এছাড়া স্বাধীনতার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হতো। মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত ডকুমেন্টারি দেখে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জিজ্ঞাসা ও এ সম্পর্কে আরো জানার আগ্রহ তৈরি করতে সক্ষম হয় সংগঠনটি। ২০১০ সালে জেলার ৫০টি স্কুল ও মাদ্রাসার অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে একই ধরনের কার্যক্রম শুরু করা হয়
২০১৪ সালে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার ১০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টার্গেট করে কার্যক্রম শুরু হয়। এ কার্যক্রমের আওতায় কুষ্টিয়া সরকারি গার্লস কলেজে ৫টি স্কুল ও ৫টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও কুইজ অনুষ্ঠিত হয়।
‘স্বাধীনতা আমার অহংকার’ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা ইউনিট কমান্ডার নাছিম উদ্দিন আহম্মেদ জানান, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
