সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রায় শত কোটি টাকার দরপত্র হলেও ঠিকাদার এবং কর্তৃপক্ষের অনিয়ম দুর্নীতি ও সমন্বয়ের অভাবে কাজ হচ্ছে না জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের। শনিবার এই সড়কের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কাজ বন্ধ থাকায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। কবে এই সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হবে তা কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছে না।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বর্তমান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. একাব্বর হোসেনের প্রচেষ্টায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সড়কটি নির্মাণের জন্য ২০১১ সালে একনেকে ৫২ কোটি টাকা অনুমোদন দেন। কিন্তু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং টাঙ্গাইল জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের মধ্যে রশি টানাটানিসহ নানা জটিলতার কারণে দরপত্র আহবান ও সড়কের কাজ শুরু হতে বিলম্ব হয়। ফলে প্রকল্পের ব্যয় এসে দাঁড়ায় ৯১ কোটি টাকা ।
দরপত্রে সড়কটির নির্মাণের জন্য কাজে ১২টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নকশা মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে মূল কাজে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ হবে কিনা তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ঠিকাদাররা বলেন, দুই জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের মধ্যে রশি টানাটানি, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা এবং অর্থ না আসায় সড়কের কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে। সড়ক দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ ভাগ কাজ হয়েছে। আগামী ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে কাজ শেষ হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মামুনুর রশিদ বলেন, পূর্বে প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৫২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ কোটি টাকা। জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা ৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা ছাড় করতে বিলম্ব করায় জমির মালিকদের টাকা পেতে দেরি হচ্ছে। ফলে কাজ ধীরগতিতে চলছে।
