সিরাজুল ইসলাম সম্পর্কে আমার ভগ্নিপতি। অনেকদিন অসুস্থ ছিলেন। গতকাল সকাল ৯টায় যখন জানলাম তখন কেমন এক ধাক্কার মতো লাগলো। বৃদ্ধজীবনের শংকা বুঝি সবারই। তবু এই হাসিখুশী মানুষটি চলে যাবে! বিশ্বাস হচ্ছে না। জানাজায় গেলাম। বনানীতে তার দাফন হলো। আমরাই জানি উনার ব্যক্তিজীবনের কতটা অভিমান ছিল। শেষ বয়সে এসে সহযোগিতা পাননি তেমন। আসলে গুণি শিল্পীদের আমরা সম্মান কতটুকুই সম্মান দিই। নিজের আত্মীয় বলে বলছিনা, তিনি আমার সহ অভিনেতা ছিলেন। আমার পরিচালনায়ও অনেকে কাজ করেছেন। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি কতটা ডেডিকেট ছিলেন বলে বোঝানো যাবে না। সেট লাইট এর কাছে এলেই কি এক মোহনীয় শক্তিতে অন্য সকল রোগ ভুলে যেতেন। তাকে কখনও রাগ বা উত্তেজিত হতে দেখিনি আমি। অগনিত কাজ করেছি একসাথে। একজন আদর্শ মানুষের যা থাকা দরকার ঠিক তেমনটি তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি কবিতা লিখতেন। নাটক প্রযোজনা করেছেন। তার প্রথম প্রযোজনা ছিলো ‘বৃষ্টি’। এ নাটকটি নির্মাণ করা হয়েছিল একটি ইংরেজি গল্পের অনুবাদ করে। তার এই দীর্ঘ জীবনে শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৮৫ সালে চন্দ্রকথা ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারও পান সিরাজুল ইসলাম। আমি মনে করি অনেক আগেই তার সকল পুরস্কার ঘরে ওঠা উচিত ছিল। কিন্তু তার যতটুকু সম্মানের জায়গায় মানুষটি ছিল। সেই জায়গাটা তিনি পায়নি।
মারা যাওয়ার পর হলেও তাকে সম্মানটা অন্তত দেওয়া হোক। অনেক সংগ্রামি জীবন ছিল মানুষটির। ‘রাজা এলো শহরে’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। এরপর তিনি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছেন। অনেক অভিজ্ঞতা ও গুণ ছিল মানুষটির।
বেচে থাকতে তার স্ত্রীর কথা অনেক বলতেন। জীবন সঙ্গীকে তার জীবনের অনেক বড় একজন সাপোর্ট মনে করতেন। তিনি বলতেন, ‘মারুফা আমার কোনো কাজে কোনোদিন বাধা দেননি। সেই গুণটি আমার সন্তানদেরও মাঝে ছিল। আমাকে চিরকাল স্বাধীন রেখেছিল তারা। আমার কাজের প্রতি এক সম্মানবোধ ছিল চিরদিন।’
সেই মানুষটি আর নেই। এটিই নিয়ম। সে যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক।
লেখক: অভিনেতা ও পরিচালক
