প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই ভ্রাতৃপ্রতীম দেশের পারস্পারিক স্বার্থে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে অবকাঠামোতে কুয়েতের আরো বিনিয়োগ কামনা করেছেন। কুয়েতের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি এ অনুরোধ জানান।
২০ সদস্যের এ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারী লে. জেনারেল সোলায়মান ফাহাদ আল ফাহাদ। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
শেখ হাসিনা সিরামিক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং ওষুধের মতো বিশ্বমানের বাংলাদেশী পণ্য আমদানি করার জন্য কুয়েত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
চট্টগ্রামে একটি তেল পরিশোধণাগার স্থাপনে কুয়েতের আগ্রহ প্রসঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ জন্য জমি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কুয়েত যে কোন সময় কাজ শুরু করতে পারে।
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কুয়েতের অবদানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশও দুঃসময়ে কুয়েতের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমরা কুয়েতের পাশে থাকবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আমির শেখ সাবাহ আল-আহমেদ আল-জাবের যখন কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখন দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি রচিত হয়। তখন থেকেই দিন দিন দু’দেশের সম্পর্ক জোরদার হতে থাকে। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, উপসাগরীয় এ দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছে। তারা কুয়েতের উন্নয়নে বিপুল অবদান রাখছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুয়েত যদি চায়, বাংলাদেশ আরো শ্রমিক পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি সুসংগঠিত বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কুয়েতের সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ অবকাঠামো ব্যবহার করতে পারে।
লে. জেনারেল সোলায়মান ফাহাদ কুয়েতের আমিরের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সেদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর বাংলাদেশী শ্রমিকরা কুয়েতের পুনর্গঠনে কাজ করেছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য শাহাদাৎবরণ করেছে। কুয়েতের পুনর্গঠন কাজেও বহু বাংলাদেশী শ্রমিক মারা গেছে। তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা কখনো তাদের ভুলবো না।
বাংলাদেশকে কুয়েতের সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে লে. জেনারেল সোলায়মান ফাহাদ বলেন, আগামী দিনগুলোতে দুই ভ্রাতৃপ্রতীম মুসলিম দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।
লে. জেনারেল ফাহাদ আরো বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি আধুনিক ও শক্তিশালী বাহিনী। এ বাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তিনি বলেন, কুয়েত তার সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে এ সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারে। ভবিষ্যতে পারস্পারিক কল্যাণে বাংলাদেশ ও কুয়েতের সেনাবাহিনী আরো ঘনিষ্টভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি প্রকৌশলী ও চিকিৎসকসহ বাংলাদেশি শ্রমিকদেরকে কঠোর পরিশ্রমী ও আন্তরিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কুয়েতের উন্নয়নে তারা বিশাল অবদান রাখছে।
এসময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, বাংলাদেশে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আলী আহমেদ ইব্রাহিম আল-দুফাইরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এবং প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসস।
